Avoid using same passwords across every email accounts
Photo Credit: Unsplash/FlyD
আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের যত বাড়বাড়ন্ত হচ্ছে, অনলাইনে সুরক্ষিত থাকার ঝুঁকি ততটাই বাড়ছে। কৃত্রিম মেধাচালিত প্রযুক্তির সাহায্যে সফটওয়্যারের দুর্বলতা খুঁজে বের করা ও সেগুলিকে মানুষের ক্ষতির কাজে লাগানোর চেষ্টা অনেক সহজ হয়ে উঠেছে। সম্প্রতি ওয়েবসাইট ও ওয়েব অ্যাপ তৈরির জন্য বহুল ব্যবহৃত প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ PHP-তে গুরুতর নিরাপত্তার ফাঁক খুঁজে পাওয়ার ঘটনা ইন্টারনেটকে পুরো নাড়িয়ে দিয়েছে। ঘটনাটি সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য বড় সতর্কবাতা হিসেবে দেখা যেতে পারে। এখন অনলাইনে নিরাপদ থাকতে শুধুমাত্র শক্তিশালী পাসওয়ার্ড যথেষ্ট নয়। বিপদ এড়াতে আরও বেশ কিছু পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।
1. মনে রাখার সুবিধার জন্য অনেকেই সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাপ, ইমেইল, অনলাইন শপিং, ব্যাঙ্কিং, এবং অন্যান্য অ্যাকাউন্টে একই পাসওয়ার্ড ব্যবহার করেন। আর সেই পাসওয়ার্ড যদি কোনওভাবে ফাঁস হয়, তাহলে একই লগইন তথ্য ব্যবহার করার কারণে অন্য অ্যাকাউন্টগুলো ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।
অনলাইনে প্রতিটি অ্যাকাউন্টের জন্য আলাদা আলাদা পাসওয়ার্ড সেট করে রাখুন। মনে রাখতে অসুবিধা হলে পাসওয়ার্ড ম্যানেজার ব্যবহার করুন। পাশাপাশি মাল্টি ফ্যাক্টর অথেন্টিকেশন বা 2FA চালু রাখুন। সে ক্ষেত্রে পাসওয়ার্ড ফাঁস হলেও লগ ইনের জন্য কোড প্রয়োজন হবে, যা সাইবার অপরাধীদের পক্ষে অনুমান করা অসম্ভব।
2. স্মার্টফোন, কম্পিউটার, ট্যাবলেট, ও অ্যাপের ক্ষেত্রে অটোমেটিক আপডেট চালু রাখুন। বাড়ির Wi-Fi রাউটার বা অন্যান্য কানেক্টেড ডিভাইসের কথা ভুললেও চলবে না। ইন্টারনেটের সঙ্গে যুক্ত যে কোনও ডিভাইসের সফটওয়্যার নিয়মিত আপডেট রাখা আবশ্যক। এটাও খেয়াল রাখতে হবে যে, আপডেটের জন্য অপরিচিত থার্ড পার্টি লিঙ্কে ক্লিক যেন না হয়।
আপডেট এসেছে কিনা, তা দেখতে সংশ্লিষ্ট সংস্থার ওয়েবসাইটে যাওয়া বুদ্ধিমানের কাজ। আপডেট ওষুধের মতো কাজ করে সফটওয়্যারের নিরাপত্তাজনিত ত্রুটি বা দুর্বলতা সারিয়ে দেয়। ফলে হ্যাকারদের সামনে সুযোগের সদ্ব্যব্যবহার করার রাস্তা বন্ধ থাকে।
3. সম্ভাব্য সাইবার হামলা হওয়ার সুযোগ নিয়ে প্রতারকরা অ্যাকাউন্ট হ্যাক হওয়ার ভুয়ো এলার্ট পাঠাতে পারে। তাই অপরিচিত কনট্যাক্ট থেকে আসা ইমেইল বা মেসেজ খুলে কিছু ডাউনলোড বা ইনস্টল করবেন না। পাসওয়ার্ড বা ভেরিফিকেশন কোডও শেয়ার করবেন না। মেসেজ বা মেইল মারফত বার্তায় দ্রুত পদক্ষেপ করার জন্য চাপ দিলে বাড়তি সতর্ক থাকুন।
4. সাইবার অপরাধীদের প্রধান টার্গেট ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফাঁকা করা। তাই ব্যাঙ্কের লেনদেন সংক্রান্ত এলার্ট চালু রাখুন। নিয়মিত অ্যাকাউন্ট ও ক্রেডিট কার্ডের লেনদেন খতিয়ে দেখুন। সন্দেহজনক লেনদেন চোখে পড়লে দ্রুত ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষকে জানান।
5. ব্যক্তিগত সতর্কতা অবলম্বন করলেই যে অনলাইনে সমস্ত বিপদ এড়ানো সম্ভব, তা নয়। তবে উপরের পদক্ষেপ সাইবার হামলার ঝুঁকি কমাতে ও ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষিত রাখতে সাহায্য করবে। সফটওয়্যারে দুর্বলতা বা ত্রুটি খুঁজে তা সমাধানের দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলিরই।
প্রযুক্তির সাম্প্রতিক খবর আর রিভিউস জানতে লাইক করুন আমাদের Facebook পেজ অথবা ফলো করুন Twitter আর সাবস্ক্রাইব করুন YouTube.