select the right air cooler based on your room size
Photo Credit: Symphony
গরমে এসির হাওয়া গায়ে লাগিয়ে ঘুমাতে কার না ইচ্ছা করে। কিন্তু সাধ থাকলেও এয়ার কন্ডিশনার কেনার মতো বাজেট বা বিদ্যুৎ খরচ সামলানোর ক্ষমতা সবার মধ্যে থাকে না। তাই গ্রীষ্মের প্রবল তাপ থেকে রেহাই পাওয়ার একটি অন্যতম মাধ্যম হল এয়ার কুলার (Air Cooler)। এসি খরচসাপেক্ষ হলেও কুলারের দাম 5,000 টাকার নিচে শুরু হয়। কিন্তু দোকান বা অনলাইনে এত রকম আকৃতির ও ফিচারের কুলার দেখা যায় যে, ঠিক কোনটি উপযুক্ত, তা বোঝা কঠিন হয়ে পড়ে। তাই এই প্রতিবেদনে পাঁচটি টিপস দেওয়া রইল, যা আপনাকে নিজের বাজেট ও প্রয়োজন অনুসারে সঠিক কুলার বেছে নিতে সাহায্য করবে।
1. এয়ার কুলার কেনার আগে ঘরের মাপ মাথায় রাখুন৷ কুলার সাধারণত তিন প্রকার হয়: ডেজার্ট, পার্সোনাল বা টায়ার কুলার। ডেজার্ট কুলার আকারে সবচেয়ে বড়। এটি বড় ঘর, হল, এবং ডাইনিং রুমের জন্য উপযুক্ত। এতে শক্তিশালী পাখা থাকে, যা দূর পর্যন্ত ঠান্ডা হাওয়া ছড়িয়ে দিতে সক্ষম। পার্সোনাল বা টায়ার কুলার আকারে ছোট হয়। এই ধরনের এয়ার কুলার ছোট ঘর, শোয়ার ঘর, ও অফিস কর্নারের জন্য উপযুক্ত। সুতরাং যেখানে রাখার পরিকল্পনা করছেন, সেই অনুযায়ী কুলার বেছে নিন।
2. এয়ার কুলারের ট্যাঙ্ক যত বড় হবে, তত বেশি সময় জল ভরার ঝামেলা ছাড়াই ঠান্ডা বাতাস সরবরাহ করবে। ভাল ঘুমের জন্য এমন কুলার বেছে নিন, যা অন্তত 8 থেকে 10 ঘন্টা চলবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ছোট ঘরের (150 স্কোয়ার ফুটের কম) জন্য 10-30 লিটার ট্যাঙ্কযুক্ত কুলার নেওয়া উচিত। কারণ ছোট কুলার প্রতি ঘন্টায় প্রায় 1.5-2 লিটার জল খরচ করে।
মাঝারি ঘরের (150-300 স্কোয়ার ফুট) জন্য 30-50 লিটার ট্যাঙ্ক ক্যাপাসিটি দেখে কুলার নিতে পারেন। এর থেকে বড় ঘর থাকলে 50-100 লিটারের এয়ার কুলার লাগবে।
3. ঘরে কতটা ঠান্ডা হাওয়া পাওয়া যাবে, তা কুলারের ভিতরে অবস্থিত কুলিং প্যাড নির্ধারণ করে। এই প্যাড জল শোষণ করে ও তার মধ্যে দিয়ে বাতাস গেলে সেটি ঠান্ডা হয়ে বের হয়। তাই ঠান্ডা হাওয়া পেতে প্যাডের মান ভাল হওয়া দরকার। বর্তমানে বেশিরভাগ কুলারে ব্যবহার হয় হানিকম্ব প্যাড। এটি বেশি সময় জল ধরে রাখতে পারে ও ভাল কুলিং দেয়।
দামে তুলনামূলক সস্তা হলেও, কাঠের উলের কুলিং প্যাডযুক্ত এয়ার কুলার না কেনাই ভাল। কারণ এটি দ্রুত শুকিয়ে যায় ও তাড়াতাড়ি নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। পাশাপাশি বারবার পরিষ্কার ও পাল্টাতে হয়।
4. কুলার কেনার সময় এয়ার থ্রো ডিসট্যান্স বা ঠান্ডা বাতাসে কত দূর পর্যন্ত পৌছবে, তা যাচাই করে নিন। শুধুমাত্র বাতাস ঠান্ডা হলেই ঘরের তাপমাত্রা কমবে না, সব কোণায় ঠিকভাবে পৌঁছাচ্ছে কিনা, সেটাও দেখার বিষয়। এয়ার কুলারের বাক্সে এয়ার থ্রো ডিসট্যান্স উল্লেখ থাকে। যত বেশি জায়গা কভার করতে পারবে, ঘরের যে কোনও স্থানে বসেই সমান ঠান্ডা অনুভব করা যাবে।
5. কুলার সাধারণত এসির তুলনায় কম বিদ্যুৎ খরচ করে৷ তাও কেনার আগে পাওয়ার এফিশিয়েন্সি চেক করে নিতে ভুলবেন না। অনেক লেটেস্ট মডেলের এয়ার কুলার ইনভার্টারে কাজ করে। লোডশেডিং হলেও ঠান্ডা হাওয়া অবিরাম চলতে থাকে। তাই ইনভার্টারে চলবে কিনা, যাচাই করে নেবেন।
প্রযুক্তির সাম্প্রতিক খবর আর রিভিউস জানতে লাইক করুন আমাদের Facebook পেজ অথবা ফলো করুন Twitter আর সাবস্ক্রাইব করুন YouTube.