Online shopping will become more transparent and fair
Photo Credit: Unsplash/Vitaly Gariev
নতুন বছর থেকে ভারতে অনলাইন কেনাকাটায় আরও স্বচ্ছতা আসতে চলেছে। ভারতীয়রা প্রতি মাসেই বিভিন্ন ই-কমার্স, কুইক কমার্স, ও অ্যাপ থেকে পণ্য অর্ডার দেন। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রেই অভিযোগ ওঠে অতিরিক্ত চার্জ নেওয়ার এবং ডিসকাউন্ট বাড়িয়ে দেখানোর। তাই সরকার কনজিউমার প্রোটেকশন (ই-কমার্স) নিয়ম 2020-এ বেশ কিছু সংশোধন করেছে। এতে মোট নয়টি পরিবর্তন এসেছে, যা 2027 সালের পয়লা জানুয়ারি কার্যকর হবে। নতুন নিয়মে অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলোকে পণ্যের প্রকৃত দাম আগে দেখাতে হবে। সার্চ রেজাল্টে কারচুপি বন্ধ করতে হবে। এছাড়াও, কেন্দ্র ক্রেতাদের অভিযোগ জানানোর অধিকারেও আরও বেশি ক্ষমতা দিয়েছে।
1. অনলাইন শপিং সংস্থাগুলির বিরুদ্ধে ডিসকাউন্ট ফুলিয়ে ফাঁপিয়ে দেখানোর অভিযোগ দীর্ঘদিনের। কিন্তু আগামী বছর থেকে কোনও পণ্যে ডিসকাউন্ট দেওয়ার সময় ছাড়ের পরের এবং আগের দাম স্পষ্টভাবে দেখাতে হবে। আগের দাম বলতে গত 30 দিনের মধ্যে যে সর্বনিম্ন মূল্যে বিক্রি করা হয়েছিল, সেটা উল্লেখ করতে হবে।
2. নির্দিষ্ট লয়্যালটি এবং মেম্বারশিপের ক্ষেত্রে কিছু ব্যতীক্রম ছাড়া অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলি একে অপরের সঙ্গে সম্পর্কহীন পরিষেবার জন্য অতিরিক্ত চার্জ নিতে পারবে না। কোনও পণ্য বিদেশ থেকে আমদানি করা হলে আমদানিকারকের তথ্য ও কোন দেশে তৈরি হয়েছে, সেই সমস্ত তথ্য স্পষ্টভাবে জানাতে হবে।
3. নতুন সংশোধনী অনুসারে, ই-কমার্স ব্র্যান্ডগুলো সার্চ রেজাল্টে কারচুপি করতে পারবে না। এর ফলে সার্চ রেজাল্টকে কৃত্রিমভাবে প্রভাবিত করে ক্রেতাদের নির্দিষ্ট পণ্য কেনার দিকে ঠেলে দেওয়ার প্রবণতা বন্ধ হবে।
4. পেইড লিস্টিং ও স্পনর্সড পণ্যের ক্ষেত্রে স্পষ্ট এবং চোখে পড়ার মতো বিজ্ঞাপনের বিষয় উল্লেখ করতে হবে। ফলে সহজেই অর্গানিক সার্চ রেজাল্ট ও বিজ্ঞাপনের সুপারিশ আলাদা করে চিনতে পারবে গ্রাহকরা।
5. সরকার নতুন নিয়মে অনলাইনে পণ্যের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য স্পষ্টভাবে উল্লেখ করার নির্দেশ দিয়েছে। যার মধ্যে প্রোডাক্টের মেয়াদ শেষের সময়, রিটার্ন ও রিফান্ড পলিসি, ওয়ারেন্টি, ডেলিভারি, এবং পেমেন্ট সংক্রান্ত তথ্য রয়েছে।
6. অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলোর ডার্ক প্যাটার্নের কারণে ভারতীয় গ্রাহকরা প্রতি বছর প্রায় 25,000 কোটি থেকে 28,000 কোটি টাকা খোয়াচ্ছেন বলে রিপোর্ট সামনে এসেছে। নতুন নিয়মে 2023 সালের ডার্ক প্যাটার্ন গাইডলাইন কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে। প্রত্যেক বছর এই বিষয়ে সংস্থাগুলোকে অডিট করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
7. যদি কোনও ক্রেতা অভিযোগ করেন, তাহলে সংশ্লিষ্ট প্ল্যাটফর্মের গ্রিভেন্স অফিসারের কাছে নথিভুক্ত করা সেই অভিযোগের একটি কপি পাওয়ার অধিকার থাকবে তাঁর। ওই কপিতে ক্রেতার অভিযোগের বিস্তারিত তথ্য লেখা থাকবে।
8. ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মগুলোকে ন্যাশনাল কনজিউমার হেল্পলাইনের সঙ্গে সমন্বয় করে চলতে বলা হয়েছে। এর ফলে গ্রাহকদের অভিযোগের সহজে নিষ্পত্তি করা যাবে।
9. নতুন সংশোধিত নিয়মে ক্রেতার সম্মতি ছাড়া ই-কমার্স সংস্থাগুলো তাদের ব্যক্তিগত তথ্য ব্যবহার করে নির্দিষ্ট বিক্রেতার পণ্য কেনার জন্য প্রভাবিত করতে পারবে না।
প্রযুক্তির সাম্প্রতিক খবর আর রিভিউস জানতে লাইক করুন আমাদের Facebook পেজ অথবা ফলো করুন Twitter আর সাবস্ক্রাইব করুন YouTube.