Critical vulnerabilities in PHP have put millions of websites at risk
Photo Credit: Unsplash/Julio Lopez
বিশ্বজুড়ে লাখ লাখ ওয়েবসাইট বড় বিপদের সম্মুখীন। ওয়েবসাইট ও ওয়েব অ্যাপ তৈরির জন্য বহুল ব্যবহৃত প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ PHP-তে গুরুতর নিরাপত্তার ফাঁক খুঁজে পেয়েছে OpenAI। বিশ্বের প্রায় 70 শতাংশ সাইট সাইবার হামলার ঝুঁকিতে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। চ্যাটজিপিটির মূল প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, তাদের GPT 5.6 AI মডেল পিএইচপি-তে ত্রুটি খুঁজে পেয়েছে। সাইবার নিরাপত্তা সংস্থা Wiz-ও দুটি নিরাপত্তা দুর্বলতা শনাক্ত করেছে। জানা গিয়েছে, PHP ল্যাঙ্গুয়েজের ত্রুটিকে কাজে লাগিয়ে হ্যাকাররা কোনও পাসওয়ার্ড ছাড়াই ওয়েবসাইটের সার্ভারে প্রবেশ করে সংবেদনশীল তথ্য হাতিয়ে নিতে পারে। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই বিভিন্ন সরকারি সংস্থা ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান তাদের ওয়েবসাইট সাময়িকভাবে বন্ধ রেখেছে।
পিএইচপি হল একটি সার্ভার-সাইড প্রোগ্রামিং ভাষা, যা বেশিরভাগ ওয়েবসাইট ও অ্যাপ্লিকেশন বানাতে কাজে লাগে। ওয়ার্ডপ্রেস, উইকিপিডিয়া, এবং ফেসবুকের পিছনেও ল্যাঙ্গুয়েজটির বড় ভূমিকা আছে। পিএইচপি পাবলিক ইন্টারনেট এবং কোনও সংস্থার গুরুত্বপূর্ণ তথ্যভান্ডারের মধ্যে সংযোগ স্থাপনে সাহায্য করে। তাই এতে নিরাপত্তাজনিত ফাঁক খুঁজে পেলে তার প্রভাব অন্যান্য ওয়েবসাইটে ছড়িয়ে যেতে পারে।
PHP-র নিরাপত্তা ত্রুটির সুযোগ নিয়ে সাইবার অপরাধীরা বাধা ছাড়াই সার্ভারের ফাইল সিস্টেম বা ডেটাবেসে ঢুকতে পারে। তারা ফাইল পড়তে, পরিবর্তন করতে বা মুছে দিতে পারে। এমনকি সংরক্ষিত লগইন তথ্য হাতিয়ে নেওয়া, গ্রাহকদের ব্যক্তিগত তথ্য চুরি, অথবা কোনও প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ আইটি পরিকাঠামোর সিদ কেটে বড় ক্ষতি করতে পারে।
ইতিমধ্যেই পিএইচপি-র ত্রুটি সংশোধনের আপডেট প্রকাশ হয়েছে। ওয়েবসাইটের মালিক ও অ্যাডমিনদের খতিয়ে দেখতে বলা হয়েছে, তাদের সার্ভারে পিএইচপি ল্যাঙ্গুয়েজের কোন ভার্সন ব্যবহার করা হচ্ছে ও সেটির কনফিগারেশন কী। এই নিরাপত্তা দুর্বলতা সম্পূর্ণভাবে এড়ানোর অন্য কোনও বিকল্প নেই। তাই সমস্যা সমাধানের জন্য দ্রুত আপডেট ইনস্টল করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
X-এর একটি পোস্টে আমেরিকার ন্যাশনাল সিকিউরিটি এজেন্সি NSA জানিয়েছে, আপডেট ইনস্টল করা সম্ভব না হলে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলি তাদের সিস্টেম সাময়িকভাবে বন্ধ করে রাখা উচিত। PHP-র নিরাপত্তা ত্রুটির প্রভাব ভারতেও বড় মাপের হতে চলেছে। কারণ সরকারি পোর্টাল, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ছোট ব্যবসা, ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম, ও দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহৃত এন্টারপ্রাইজ সিস্টেমের মূল ভিত্তি হল ওই প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ।
অনেক সংস্থাই শেয়ার্ড হোস্টিং প্রোভাইডার, থার্ড পার্টি ওয়েব ডেভেলপার, ও পুরনো কনটেন্ট ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমের উপর নির্ভরশীল। এই ব্যবস্থায় ওয়েবসাইট ব্যবহারকারী সংস্থার হাতে সরাসরি সিকিউরিটি আপডেট ইনস্টল করার ক্ষমতা নাও থাকতে পারে। সে ক্ষেত্রে তাদের হোস্টিং পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থা ও আইটি ভেন্ডরের উপর নির্ভর করতে হবে।
প্রয়োজনীয় সুরক্ষার বর্ম চালু না হওয়া পর্যন্ত বিভিন্ন সংস্থার স্বাভাবিক কাজকর্ম ব্যহত হওয়াটাই স্বাভাবিক৷ সমস্যাটির সমাধান না হলে হ্যাকাররা সার্ভারে ঢুকে ব্যবসায়িক নথি বা পেমেন্টের বিবরণ চুরি করতে পারে। এছাড়াও, তারা ওয়েবসাইটের কনটেন্ট বদলে দিতে, গোপনে সিস্টেমে প্রবেশের ব্যবস্থা তৈরি করতে, ও আক্রান্ত সার্ভারকে কাজে লাগিয়ে অন্য সিস্টেমে সাইবার হামলা চালাতে পারে।
প্রযুক্তির সাম্প্রতিক খবর আর রিভিউস জানতে লাইক করুন আমাদের Facebook পেজ অথবা ফলো করুন Twitter আর সাবস্ক্রাইব করুন YouTube.