Android System Intelligence enables a suite of contextual features
Photo Credit: Unsplash/ Denny Müller
অ্যান্ড্রয়েড ফোনে থাকা অ্যাপ লিস্ট খুললে সেখানে Android System Intelligence বা ASI নামে একটি সিস্টেম অ্যাপ্লিকেশন দেখা যায়। ধারেভারে নামটি খুব গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে হলেও, এটি আদতে ঠিক কী কাজ করে, তা অধিকাংশ ব্যবহারকারীর কাছে স্পষ্ট নয়। আরও অবাক করার মতো বিষয় হল আপনি অ্যাপটি ডিজেবল করতে পারেন। কিন্তু প্রশ্ন আসতেই পারে যে এটি বন্ধ করলে ফোনের কাজকর্মে কোনও প্রভাব পড়বে কিনা? আজকের প্রতিবেদনে সেই নিয়েই আলোচনা। Android System Intelligence-এর প্রধান কাজ হল গুগলের অপারেটিং সিস্টেমযুক্ত সমস্ত মোবাইল ফোনে স্মার্ট ফিচার্স ঠিকমতো চালাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
অ্যান্ড্রয়েড সিস্টেম ইন্টেলিজেন্স (এএসআই) কোনও সাধারণ সিস্টেম অ্যাপ নয়। এটি একটি অ্যান্ড্রয়েড স্মার্টফোনের যে সমস্ত ফিচার্স চালাতে সাহায্য করে, তার মধ্যে বেশ কয়েকটি গুগল পিক্সেল ফোনের জন্য তৈরি। সিস্টেম ফিচার চালনার পাশাপাশি ব্যবহারকারীর প্রাইভেসি এবং ডেটা সুরক্ষিত রাখার চেষ্টা করে। সেই কারণে সিস্টেম অ্যাপটি প্রাইভেট কম্পিউটিং কোর বা পিসিসি-র মাধ্যমে কাজ সম্পন্ন করে।
ASI-এর মেশিন লার্নিং ফিচার্স সরাসরি নেটওয়ার্ক বা ইন্টারনেটের অ্যাক্সেস করতে পারে না। যখন ক্লাউড থেকে কোনও আপডেট প্রয়োজন হয়, তখন পিসিসি সেতুবন্ধনের কাজ করে। অ্যান্ড্রয়েড ফোনের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্যের পিছনে এই সিস্টেমের হাত রয়েছে। এটি লাইভ ক্যাপশন ফিচার চালনা করে, যার মাধ্যমে ভিডিও দেখার সময় স্বয়ংক্রিয়ভাবে ক্যাপশন তৈরি হয়।
সিস্টেমটি স্মার্ট অটোরোটেট নিশ্চিত করে। অর্থাৎ, আপনি ফোন কোন ওরিয়েন্টেশনে ধরে রেখেছেন, তা শনাক্ত করে স্ক্রিন রোটেট করে। এটি এক অ্যাপ থেকে অন্য অ্যাপে লেখা কপি এবং পেস্ট আরও সহজ করে তোলে। লঞ্চারে আপনি পরের কোন অ্যাপ ব্যবহার করবেন, তা অ্যান্ড্রয়েড সিস্টেম ইন্টেলিজেন্স অনুমান করে সাজেশন দেখায়।
এছাড়াও, ASI-এর মাধ্যমে নোটিফিকেশন অ্যাকশন বাটন, স্মার্ট টেক্সট সিলেকশন, লিঙ্কিফাই টেক্সট, লাইভ ট্রান্সলেট, অ্যাপ সার্চ, অ্যাসিস্ট্যান্ট ভয়েস টাইপিং, নাউ প্লেয়িং, সিনেমাটিক ওয়ালপেপার-সহ বিভিন্ন ফিচার্স অ্যান্ড্রয়েড স্মার্টফোনে কাজ করে। তবে সব ফোনেই এই সমস্ত ফিচার্স থাকে না। কিছু শুধুমাত্র Pixel সিরিজের জন্য এক্সক্লুসিভ৷ আবার কিছু ফিচার্সের জন্য নির্দিষ্ট হার্ডওয়্যার প্রয়োজন।
ফিচারগুলি ছাড়াও অ্যান্ড্রয়েড স্মার্টফোন ব্যবহার করা সম্ভব। তবে অ্যান্ড্রয়েড সিস্টেম ইন্টেলিজেন্স ডিজেবল করে দিলে কিছু স্মার্ট এআই ফিচার্সের থেকে বঞ্চিত হবেন। অ্যান্ড্রয়েড সিস্টেম ইন্টেলিজেন্সের বেশি স্টোরেজ দখল করে রাখা ও ব্যাটারি খরচের মতো অভিযোগ আছে। এটি মাঝে মাঝে লোকেশনের অ্যাক্সেসও চায়। এই কারণে কেউ কেউ ফোন থেকে নিষ্ক্রিয় করার কথা ভাবেন।
মনে রাখবেন, অ্যাপ ডিজেবল করে দিলে ফোন হঠাৎ করে সাধারণ কাজ করা বন্ধ করবে না। কলিং, ইন্টারনেট, ক্যামেরা — সবকিছুই চালু থাকবে। তবে ASI-এর উপর নির্ভরশীল বেশ কিছু ফিচার্স আর কাজ করবে না। কোন কোন ফিচার্স বন্ধ হবে, তার নির্দিষ্ট লিস্ট গুগল প্রকাশ করেনি। কারণ মডেল, ব্র্যান্ড, এবং হার্ডওয়্যার অনুসারে অ্যান্ড্রয়েড সিস্টেম ইন্টেলিজেন্সের ব্যবহার আলাদা হতে পারে।
প্রযুক্তির সাম্প্রতিক খবর আর রিভিউস জানতে লাইক করুন আমাদের Facebook পেজ অথবা ফলো করুন Twitter আর সাবস্ক্রাইব করুন YouTube.