iPhone 18 Pro vs iPhone 17 Pro comparison
গতকাল Apple-এর "সারপ্রাইজ ও শাইন" অনুষ্ঠানে iPhone 18 Pro লঞ্চ হয়েছে। এটি iPhone 17 Pro-এর উত্তরসূরী হিসেবে এসেছে। নতুন মডেলে মেকানিক্যাল ভ্যারিয়েবল অ্যাপারচার, 2 ন্যানোমিটার ফেব্রিকেশনে তৈরি A20 Pro প্রসেসর, আরও উন্নত ভেপার চেম্বার কুলিং সিস্টেম, বড় ব্যাটারি, আরও ছোট ডাইনামিক আইল্যান্ড, এবং নতুন মডেম ব্যবহার করা হয়েছে। দুই ফোনের ডিজাইনে চোখে পড়ার মতো পার্থক্য না থাকলেও ভিতরের হার্ডওয়্যারে একাধিক পরিবর্তন করেছে অ্যাপল। 30,000 টাকা বেশি দামে লঞ্চ হওয়া নতুন iPhone 18 Pro-এর সঙ্গে গত বছরের iPhone 17 Pro মডেলের পার্থক্য তুলে ধরা হল এই প্রতিবেদনে।
আইফোন 18 প্রো মডেলে একটি নয়া 48 মেগাপিক্সেল ফিউশন প্রাইমারি ক্যামেরা আছে, যেখামে ছয়টি ব্লেডের মেকানিক্যাল ভ্যারিয়েবল অ্যাপারচার রয়েছে। f/1.48, f/1.8, f/2.8, এবং f/4.0 — এই চার অ্যাপারচার সেটিংস বেছে নেওয়া যাবে। ফলে ছবিতে কতটা আলো ঢুকবে ও ডেপ্থ অফ ফিল্ড কেমন হবে, তা নিয়ন্ত্রণ করা যাবে। ফোনে 48 মেগাপিক্সেল টেলিফটো ক্যামেরা এবং 48 মেগাপিক্সেল আল্ট্রাওয়াইড লেন্সও থাকছে। সামনে 18 মেগাপিক্সেল সেন্টার স্টেজ সেলফি ক্যামেরা আছে।
আইফোন 17 প্রো মডেলেও 48 মেগাপিক্সেল ফিউশন প্রাইমারি ক্যামেরা, 48 মেগাপিক্সেল আল্ট্রাওয়াইড লেন্স, ও 48 মেগাপিক্সেল টেলিফটো ক্যামেরা রয়েছে। তবে এটি ভ্যারিয়েবল অ্যাপারচার অফার করে না। এই ফোনের সামনেও 18 মেগাপিক্সেল সেন্টার স্টেজ সেলফি ক্যামেরা বর্তমান, যা অটোফোকাস সাপোর্ট করে।
iPhone 18 Pro মডেল ব্যবহৃত A20 Pro প্রসেসর 6টি কোরের সিপিইউ, 7টি কোরের জিপিইউ, এবং দুটি 16 কোরের নিউরাল ইঞ্জিন নিয়ে গঠিত। Apple নিউরাল অ্যাক্সিলারেটরও আপগ্রেড করেছে। সংস্থার দাবি, এটি গত বছরের iPhone 17 Pro সিরিজের 3 ন্যানোমিটার প্রসেসে তৈরি A19 Pro চিপের তুলনায় 50 শতাংশ বেশি মেমোরি ব্যান্ডইউথ অফার করে। এছাড়াও, নতুন চিপটি 40 শতাংশ দ্রুত জিপিইউ পারফরম্যান্স ও দ্বিগুণ AI প্রসেসিং ক্ষমতা অফার করবে।
Apple জানিয়েছে, iPhone 18 Pro-এর ই-সিম অনলি মডেল একবার চার্জে 36 ঘন্টা ভিডিও প্লেব্যাক অফার করবে। এটি 15 মিনিটের মধ্যে 50 শতাংশ চার্জ হয়ে যাবে। এটি লেটেস্ট iOS 27-এর সঙ্গে ক্রেতাদের হাতে তুলে দেওয়া হবে। নতুন সফটওয়্যারে Siri AI যুক্ত করা হয়েছে।
iPhone 17 Pro-এর ক্ষেত্রে ফুল চার্জে 33 ঘন্টা ভিডিও প্লেব্যাকের দাবি করা হয়। এটি 20 মিনিটে 50 শতাংশ চার্জ হয়। অর্থাৎ, আপগ্রেড ভার্সনে চার্জিংয়ের গতি বাড়ানো হয়েছে। ফোনটি সেপ্টেম্বর 14 থেকে iOS 27 অপারেটিং সিস্টেম আপগ্রেড পাবে।
ডিসপ্লের দিক থেকে দুই ফোনে বিশেষ পার্থক্য নেই। iPhone 18 Pro-এর সামনে 6.3 ইঞ্চির সুপার রেটিনা এক্সডিআর ওলেড ডিসপ্লে আছে। এটি ProMotion টেকনোলজি, অলওয়েজ-অন-ডিসপ্লে-ডিসপ্লে, ও 120 হার্টজ রিফ্রেশ রেট সাপোর্ট করে।
অন্য দিকে, iPhone 17 Pro মডেলেও 6.3 ইঞ্চি সুপার রেটিনা XDR OLED ডিসপ্লে আছে। এটি 3,000 নিট পিক ব্রাইটনেস ও ডলবি ভিশন সাপোর্ট করে। তবে iPhone 18 Pro কোয়ালকমের পরিবর্তে ব্র্যান্ডের নিজস্ব C2 মডেম পেয়েছে। এটি কম পাওয়ার খরচ করে আরও বেশি আপলোড স্পিড দিতে পারবে।
iPhone 18 Pro-এর বেস 256 জিবি স্টোরেজের দাম 1,64,900 টাকা রাখা হয়েছে। 512 জিবি, 1 টিবি, ও 2 টিবি স্টোরেজ ভ্যারিয়েন্টের মূল্য যথাক্রমে 1,89,000 টাকা, 2,39,900 টাকা, ও 3,14,900 টাকা। অন্য দিকে, গত বছর iPhone 17 Pro-এর-এর স্টার্টিং প্রাইস ছিল 1,34,900 টাকা। 512 জিবি ও 1 টিবি স্টোরেজের মূল্য যথাক্রমে 1,54,900 টাকা এবং 1,74,900 টাকা ছিল।
নতুন iPhone 18 Pro মডেলকে শুধুমাত্র নিয়মমাফিক আপগ্রেড বললে ভুল হবে। এতে ভ্যারিয়েবল ক্যামেরা অ্যাপারচার, আরও পাওয়ারফুল প্রসেসর, উন্নত কুলিং সিস্টেম, বেশি ব্যাটারি ব্যাকআপ, এবং সক্ষম মডেম রয়েছে। তবে এই সমস্ত আপগ্রেডের জন্য 30,000 টাকা অতিরিক্ত খরচ করা কতটা যুক্তিসংগত, তা রিভিউ করার পরই বলা সম্ভব হবে।
প্রযুক্তির সাম্প্রতিক খবর আর রিভিউস জানতে লাইক করুন আমাদের Facebook পেজ অথবা ফলো করুন Twitter আর সাবস্ক্রাইব করুন YouTube.