Photo Credit: Pexels/Lucie Liz
গৃহস্থালীর কাছে ব্যবহৃত বিভিন্ন যন্ত্র বিরাম পেলেও, রেফ্রিজারেটর বা ফ্রিজকে 24 ঘন্টা একনাগাড়ে কাজ করতে হয়। শীত হোক বা গ্রীষ্ম, মাছ, মাংস, শাকসবজি, ও রান্না করা খাবার দীর্ঘদিন ভাল রাখতে ও ব্যাকটেরিয়া বা জীবাণুর বিস্তার রোধ করতে ফ্রিজ চালিয়ে রাখতে হয়। কিন্তু লক্ষ্য করে দেখবেন, ফ্রিজ সমসময় কুলিং করে না। মেশিনটি কিছুক্ষণ চলার পর নিজে থেকেই থেমে যায়। আবার ঠান্ডা করার জন্য চালু হয়। তাহলে প্রশ্ন হল, ফ্রিজ কীভাবে বুঝতে পারে কখন কুলিং বন্ধ করতে হবে এবং কখন শুরু করতে হবে?
রেফ্রিজারেটরের ভিতরে এমন একটি ব্যবস্থা আছে, যা সবসময় তাপমাত্রা নজর রাখে এবং ঠান্ডা শুরু বা বন্ধ করার সময় নির্ধারণ করে। মূলত এই কাজের জন্য ব্যবহার হয় থার্মোস্ট্যাট। এটি নিয়মিত ফ্রিজের ভিতরের তাপমাত্রা পর্ববেক্ষণ করে ও সেই অনুযায়ী কুলিং বন্ধ বা শুরু করতে হবে, তা ঠিক করে নেয়।
ফ্রিজের তাপমাত্রা নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় পৌঁছে গেলে থার্মোস্ট্যাট কম্প্রেসার বন্ধ করে দেয়। ফলে কুলিং সাময়িকভাবে থেমে যায়। পরে দরজা বারবার খোলা, গরম খাবার বা অন্য কোনও কারণে ভেতরের তাপমাত্রা বেড়ে গেলে থার্মোস্ট্যাট আবার কম্প্রেসার চালু করে দেয়। তারপর রেফ্রিজারেন্ট কুলিং সিস্টেমের মধ্যে সঞ্চালিত হতে শুরু করে। এটি ভিতরের তাপ শোষণ করে বাইরে বার করে দেয়। এর ফলে তাপমাত্রা আবার কমে যায়।
প্রসঙ্গত, ফ্রিজ দিনরাত কাজ করে। তাই যন্ত্রটির আয়ু দীর্ঘায়িত করতে চাইলে কয়েকটি বিষয় মাথায় রাখা জরুরি। ফ্রিজ ভাল রাখতে হলে মাঝেমধ্যে এর পিছন দিকে একেবারে নীচের দিকে থাকা কনডেন্সার কয়েল পরিষ্কার করা দরকার। সময়ের সাথে সাথে এতে ধুলো, ময়লা বা তেল জমে ঠান্ডা করার ক্ষমতা কমাতে পারে। তাই বছরে দুই-তিনবার পরিষ্কার করে নিতে পারেন।
এছাড়াও, কয়েকটি ক্ষেত্রে আমাদের ব্যবহারের দোষেও খারাপ হতে পারে ফ্রিজ। একগাদা জিনিস কিনে ফ্রিজ ভর্তি করে রাখা এড়িয়ে চলুন। যে সব খাদ্য ফ্রিজে না রাখলে পচে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, সেগুলোই ফ্রিজে রাখুন। ফ্রিজ ভাল রাখতে হলে নিয়মিত ডিফ্রস্ট করাও জরুরি। ফ্রিজ়ারের ভিতরের দেওয়ালে বরফের গুহা জমতে দেখতে পেলেই ডিফ্রস্ট করতে হবে।
প্রযুক্তির সাম্প্রতিক খবর আর রিভিউস জানতে লাইক করুন আমাদের Facebook পেজ অথবা ফলো করুন Twitter আর সাবস্ক্রাইব করুন YouTube.