UPI Kill Switch will protect users against digital arrest and online frauds
Photo Credit: Paytm
কখনও আয়কর দফতর বা জিএসটি আধিকারিক। আবার কখনও সিবিআই, সাইবার, কাস্টম, কিংবা পুলিশ অফিসার। এমনই পরিচয়ে ফোন করে অনলাইনে গ্রেফতারির ভয় দেখিয়ে টাকা হাতানোর ঘটনা সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই প্রতারণা ডিজিটাল অ্যারেস্ট নামে বেশি পরিচিত। সাইবার অপরাধীদের ফাঁদে পা দিয়ে হাজার হাজার কোটি টাকা খোয়ানোর ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে। এই পরিস্থিতিতে নড়েচড়ে বসেছে ভারত সরকার। ব্যাঙ্কিং ও ডিজিটাল প্রতারণা রুখতে এক নতুন ব্যবস্থা চালু করার কথা ভাবছে কেন্দ্র। সেই নয়া সিস্টেমের নাম কিল সুইচ (Kill Switch)। চলুন দেখে নিই এটি ঠিক কী এবং কেমন ভাবে কাজ করবে।
ভারত সরকার UPI প্ল্যাটফর্ম (ইউনাইটেড পেমেন্ট ইন্টারফেস) ও ব্যাঙ্কিং অ্যাপে কিল সুইচ নামে একটি নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য আনার চিন্তাভাবনা করছে। কোনও নাগরিক যদি প্রতারণার আশঙ্কা করেন, তাহলে ওই ইমার্জেন্সি বোতাম চাপা মাত্রই তার ইউপিআই বা ব্যাঙ্কিং অ্যাপ থেকে সমস্ত লেনদেন বন্ধ হয়ে যাবে। অর্থাৎ অন্য ব্যক্তিকে টাকা পাঠানোর সুবিধা স্থগিত হবে।
দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের (MHA) অধীনে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি কিল সুইচ চালু করার বিষয়টি খতিয়ে দেখছে। ভারতের ডিজিটাল ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থায় এই সিকিউরিটি ফিচার যুক্ত করা নিয়ে আলোচনা চলছে। প্রস্তাবিত কিল সুইচ চালু হলেই অ্যাকাউন্ট থেকে সাময়িকভাবে সমস্ত লেনদেন থমকে যাবে। এর ফলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি নিজের ব্যাঙ্ক বা সাইবার হেল্পলাইনে যোগাযোগ করা ও পরিবারের সহায়তা নেওয়ার জন্য বাড়তি সময় পাবেন।
বর্তমানে UPI লেনদেন খুব দ্রুত সম্পন্ন হয়। সাইবার প্রতারকদের একবার টাকা পাঠালে তা একাধিক অ্যাকাউন্টে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। পুলিশকে বোকা বানাতে এখন ডিজিটাল স্ক্যামে ভাড়াটে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের ব্যবহার হচ্ছে। ফলে টাকা উদ্ধার করা কঠিন হয়ে পড়ছে। তাই কমিটি কিল সুইচ নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি এটাও খতিয়ে দেখছে, সন্দেহজনক লেনদেন আগেভাগে চিহ্নিত করে সেটা বিভিন্ন ভুয়ো অ্যাকাউন্টে পৌছনো আটকানো সম্ভব কিনা।
ডিজিটাল প্রতারণায় আক্রান্তদের সুরক্ষায় বিমার ভূমিকা নিয়েও আলোচনা চলছে। অনলাইন স্ক্যামে টাকা হারিয়ে ফেললে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে তা ফেরত পাওয়া দুঃসাধ্য হয়ে ওঠে। সাইবার ইন্সুরেন্স পলিসি মূলত সিস্টেম হ্যাকিং সংক্রান্ত ঘটনায় কাজ করে। কিন্তু প্রতারকরা যখন মানসিকভাবে চাপে ফেলে মানুষকে টাকা পাঠাতে বাধ্য করে, তখন সেই ক্ষতি সাধারণত বিমার আওতায় আসে না। তাই পুলস ইন্সুরেন্স মডেল নিয়ে ভাবনাচিন্তা চলছে, যাতে প্রতারিতরা অন্তত আংশিক ক্ষতিপূরণ পাওয়ার সুযোগ পান।
প্রযুক্তির সাম্প্রতিক খবর আর রিভিউস জানতে লাইক করুন আমাদের Facebook পেজ অথবা ফলো করুন Twitter আর সাবস্ক্রাইব করুন YouTube.