One AI image can consume fractions of a watt-hour to several watt-hours
Photo Credit: Pexels/UMA media
আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের সৌজন্যে সোশ্যাল মিডিয়াতে ফিরে এসেছে আশির দশক। ChatGPT দিয়ে তৈরি 1980-এর আবহের ছবি ছড়িয়ে পড়ছে ইনস্টাগ্রাম এবং ফেসবুক-সহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। AI টুলের মাধ্যমে নিজের ছবি সহজেই পুরনো দিনের মতো সাজ-পোশাক ও পটভূমিতে বদলে ফেলা যাচ্ছে। স্টুডিও জিবলির পর আরও একটি ভাইরাল ট্রেন্ডের সূচনা। কিন্তু এই ধরনের ডিজিটাল ছবি বানাতে গিয়ে এআই ডেটা সেন্টার কী পরিমাণ বিদ্যুৎ ও জল খরচ করছে, সেই সম্পর্কে ধারণা নেই অনেকরই। চ্যাটজিপিতে একসঙ্গে লাখ লাখ মানুষ আশির দশক ছবি বানালে পরিবেশের উপর তার সুদূরপ্রসারী প্রভাব পড়তে পারে।
চ্যাটজিপিটির মতো এআই দিয়ে ছবি বানাতে কম্পিউটিং ক্ষমতার প্রয়োজন হয়। বিশেষ প্রসেসর ও জিপিইউ ব্যবহার করে এই ধরনের কাজ সম্পন্ন হয়। এই যন্ত্রগুলো প্রচুর বিদ্যুৎ খরচ করে ও তাপ উৎপন্ন করে। ফলে সেগুলো ঠান্ডা রাখতে কুলিং সিস্টেমের প্রয়োজন। এই ক্ষেত্রে জল ব্যবহার করা হয়।
একটি এআই ছবি বানাতে কতটা বিদ্যুৎ খরচ হয়, তা নির্দিষ্টভাবে বলা সম্ভব নয়। তবে ফার্স্টপোস্টের রিপোর্ট অনুসারে, এক ওয়াট আওয়ারের কম থেকে কয়েক ওয়াট আওয়ারের বিদ্যুৎ খরচ হতে পারে। এআইএনসিউরড-এর সিইও ডঃ শ্রীনিবাস বলেছেন, একটি এআই ছবি তৈরি করতে প্রায় 1.2 ওয়াট আওয়ার বিদ্যুৎ লাগতে পারে।
মাসটেক গ্রুপের সিটিও এবং ইনোভেশন অফিসার ঋত্বিক বটব্যালের মতে, কোন মডেল ব্যবহার হচ্ছে ও সেটি কীভাবে ব্যবহার চলছে, তার উপর ইলেকট্রিসিটি ব্যয় কম বেশি হতে পারে। কোনও কোনও ক্ষেত্রে এক ওয়াট আওয়ারের কম, আবার কখনও কয়েক ওয়াট আওয়ার পর্যন্ত বিদ্যুৎ দরকার হতে পারে।
ইউনাইটেড নেশনস ইউনির্ভার্সিটির 2026 সালের এক মূল্যায়ণ বলছে, একটি সাধারণ এআই-নির্মিত ছবিতে বেসিক টেক্সট চ্যাটের তুলনায় প্রায় 1,540 গুণ বেশি বিদ্যুৎ লাগতে পারে। একজনের ক্ষেত্রে কয়েক ওয়াট আওয়ার বিদ্যুৎ খরচ খুবই সামান্য মনে হতে পারে। কিন্তু সমস্যা তৈরি হয় যখন গণহারে AI দিয়ে ছবি তৈরি করা শুরু হয়।
আমরা সাধারণত একবার ছবি তৈরি করেই থেমে থাকি না। চূড়ান্ত ফটো পাওয়ার আগে প্রম্পট দিয়ে অনেকবার সংশোধন করি। ফলে একই ধরনের ছবির জন্য প্রচুর প্রসেসিং কাজ বা ইনফারেন্স টাস্ক তৈরি হতে পারে। তবে এখানে শুধু বিদ্যুৎ খরচ দেখলে পুরো বিষয়টি বোঝা যাবে না। ডেটা সেন্টারের যন্ত্রপাতি ঠান্ডা রাখতে কুলিং সিস্টেম থাকে। সেখানে সাধারণত সরাসরি জল ব্যবহার করা হয়।
রিপোর্ট অনুসারে, 2030 সালের মধ্যে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স পরিষেবা প্রদানকারী ডেটা সেন্টারগুলোর বার্ষিক বিদ্যুৎ চাহিদা 945 টেরাওয়াট আওয়ার হতে পারে। জলের চাহিদা 9.3 ট্রিলিয়ন লিটারে পৌঁছে যেতে পারে। তবে এটি সামগ্রিক পরিকাঠামোর হিসাব। 1980-এর দশকের স্টাইলে ছবি তৈরির পিছনে রিসোর্সের হিসাব নয়।
এখনও পর্যন্ত এই ট্রেন্ডে কত ছবি তৈরি হয়েছে, তা জানা যায়নি। তাই মোট কতটা বিদ্যুৎ বা জল খরচ হয়েছে, তা নির্দিষ্টভাবে বলা সম্ভব নয়। তবে শ্রীনিবাস জানিয়েছেন, AI দিয়ে ছবি তৈরির কাজ যখন বিপুল পরিমাণে করা হয়, তখন কুলিংয়ের জন্য ব্যবহৃত জলও বৃহত্তর সম্পদ ব্যবহারের প্রশ্নের অংশ হয়ে ওঠে। ডেটা সেন্টারের অবস্থান, বিদ্যুৎ উৎপাদনের উৎস, স্থানীয় আবহাওয়া, ও কুলিং প্রযুক্তির উপর জলের ব্যবহার পরিবর্তিত হতে পারে।
প্রযুক্তির সাম্প্রতিক খবর আর রিভিউস জানতে লাইক করুন আমাদের Facebook পেজ অথবা ফলো করুন Twitter আর সাবস্ক্রাইব করুন YouTube.