Russia attempted to fully block WhatsApp in the country
টেলিগ্রামের (Telegram) পর এবার হোয়াটসঅ্যাপ (WhatsApp)। রাশিয়ায় নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়ল বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় দুই মেসেজিং প্ল্যাটফর্ম। মেটার (Meta) একজন মুখপাত্র দ্য গার্ডিয়ানকে বলেছেন, রাশিয়া হোয়াটসঅ্যাপ সম্পূর্ণভাবে ব্লক করার চেষ্টা করছে। সে দেশে অ্যাপটির ব্যবহারকারীর সংখ্যা 10 কোটির বেশি। রিপোর্ট বলছে, অনেকেই অ্যাপ ঠিকভাবে কাজ না করার দাবি করছেন। মেসেজ পাঠাতেও নাকি সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। তবে সরকারের তরফে ব্লক করার প্রচেষ্টা কতটা সফল হয়েছে বা পরিষেবায় ঠিক কতটা প্রভাব পড়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। প্রসঙ্গত, ইউক্রেন যুদ্ধের সময় থেকেই পুতিন সরকারের রোষানলে পশ্চিমের বিভিন্ন ইন্টারনেট প্ল্যাটফর্ম।
রাশিয়ার নাগরিকদের উপর ডিজিটাল নজরদারি চালাতেই মস্কোর এমন পদক্ষেপ বলে দাবি করছেন মানবাধিকার সংগঠন এবং সমালোচকরা। গত বছরেই রাষ্ট্র-নিয়ন্ত্রিত যোগাযোগের অ্যাপ ম্যাক্স (Max) নতুন স্মার্টফোনে প্রি-ইনস্টল করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। মেটার মালিকানাধীন অন্য দুই প্ল্যাটফর্ম ফেসবুক এবং ইনস্টাগ্রাম তিন বছর আগেই রাশিয়ায় নিষিদ্ধ রয়েছে। সেগুলো শুধু ভিপিএন (VPN) এর মাধ্যমে ব্যবহার করা যায়।
হোয়াটসঅ্যাপ X-এর একটি পোস্টে লিখেছে, "আজ রাশিয়ার সরকার আমাদেরকে সম্পূর্ণভাবে ব্লক করার চেষ্টা করছে, যাতে মানুষকে রাষ্ট্র-নিয়ন্ত্রিত নজরদারি অ্যাপের দিকে ঠেলে দেওয়া যায়। 10 কোটির বেশি মানুষকে ব্যক্তিগত এবং সুরক্ষিত যোগাযোগ থেকে বিচ্ছিন্ন করার পদক্ষেপ রুখে ব্যবহারকারীদের সংযুক্ত রাখতে যা সম্ভব সবই করে যাব।"
উল্লেখ্য, মস্কো আগেই ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলোকে সতর্ক করে বলেছিল, রাশিয়ার আইন না মানলে গতি কমিয়ে দেওয়া বা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করার পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে। রুশ আইন অনুসারে, দেশের নাগরিকদের ডেটা রাশিয়ার ভিতরেই সংরক্ষণ করে রাখতে হবে। এছাড়াও, যে সমস্ত কনটেন্টকে সরকার অপরাধমূলক বলে চিহ্নিত করবে, তা দ্রুত সরিয়ে ফেলতে হবে।
রাশিয়ায় হোয়াটসঅ্যাপের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই ক্রেমলিনের এক মুখপাত্র রুশ সংবাদসংস্থাকে বলেন, "বিষয়টি মূলত আইন মেনে চলার উপর নির্ভর করছে। মেটা রাশিয়ার আইন মেনে সরকারের সঙ্গে আলোচনায় বসলে সমঝোতার সম্ভাবনা আছে। যদি তারা নিয়ম মানতে অনিচ্ছুক হয়, তাহলে ফিরে আসার সমস্ত দরজা বন্ধ।"
অনুমান করা হচ্ছে, ধাপে ধাপে পরিষেবা বন্ধের পথে হাঁটবে মস্কো। টেলিগ্রামে ও হোয়াটসঅ্যাপের বিকল্প হিসেবে ম্যাক্স নামের একটি অ্যাপের প্রচার করছে মস্কো, যা চীনের উইচ্যাটের আদলে তৈরি। গত বছরের শেষে স্ন্যাপচ্যাটের অ্যাক্সেস ব্লক করে দিয়েছিল রাশিয়া। এমনকি অ্যাপলের নিজস্ব ভিডিও কলিং পরিষেবা ফেসটাইমের উপরেও বেশ কিছু নিষেধাজ্ঞা চাপিয়েছে পুতিন সরকার।
প্রযুক্তির সাম্প্রতিক খবর আর রিভিউস জানতে লাইক করুন আমাদের Facebook পেজ অথবা ফলো করুন Twitter আর সাবস্ক্রাইব করুন YouTube.