India freezes final clearance for Starlink to launch commercial service in the country
Photo Credit: Unsplash/Mariia Shalabaieva
ভারতে স্টারলিঙ্কের (Starlink) কৃত্রিম উপগ্রহভিত্তিক ইন্টারনেট পরিষেবা চালু হওয়া নিয়ে নতুন জট। ভারত সরকার ইলন মাস্কের সংস্থার বাণিজ্যিক পরিষেবা শুরু করার জন্য চূড়ান্ত অনুমোদন আটকে রেখেছে। রিপোর্ট বলছে, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের অধীন কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা সংস্থাগুলি এখনও স্টারলিঙ্কের স্যাটকম সার্ভিস চালুর জন্য প্রয়োজনীয় ফাইনাল ক্লিয়ারেন্স দেয়নি। যার জন্য ভারতে আমেরিকান কোম্পানিটির আনুষ্ঠানিকভাবে প্রবেশ আপাতত অনিশ্চিয়তার মুখে পড়েছে। ইরানের সঙ্গে আমেরিকা এবং ইজরায়ের সংঘাত ছাড়পত্র না পাওয়ার পিছনে অনুঘটকের কাজ করেছে। সেখানে সংস্থাটির ইন্টারনেট পরিষেবার লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও, ইরানীরা স্যাটেলাইটের মাধ্যমে অ্যাক্সেস পেয়েছে।
ইরানে স্টারলিঙ্কের ইন্টারনেট পরিষেবার লাইসেন্স নেই। কিন্তু যুদ্ধের সময় সংস্থার স্যাটেলাইট টার্মিনাল ব্যবহার করার প্রমাণ প্রকাশ্যে এসেছে। ব্লুমবার্গের প্রতিবেদন অনুসারে, বিষয়টি কেন্দ্রীয় সরকারকে উদ্বেগের মধ্যে ফেলেছে। সেই কারণে চূড়ান্ত অনুমোদন প্রক্রিয়া স্থগিত রাখা হয়েছে।
ভারত সরকার জানতে চাইছে, কোনও ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা বা আর্ন্তজাতিক সংঘাতের পরিস্থিতি তৈরি হলে, স্টারলিঙ্কের মতো মার্কিন স্যাটেলাইট ইন্টারনেট পরিষেবা প্রদানকারীর উপর তাদের কতটা নিয়ন্ত্রণ বা প্রভাব থাকবে। অর্থাৎ, জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্নে কোনও ঝুঁকি নিতে রাজি নয় কেন্দ্র।
সরকার নিশ্চিত হতে চাইছে, ভবিষ্যতে ভারতের সঙ্গে অন্য দেশের মধ্যে সংঘাত তৈরি হলে, স্টারলিঙ্ক ভারতীয় নিরাপত্তা সংক্রান্ত নিয়ম এবং শর্তগুলি মেনে চলতে পারবে কিনা। স্টারলিঙ্কের অনুমোদন প্রক্রিয়া স্থগিত থাকায় স্যাটেলাইটের মূল্য সংক্রান্ত প্রস্তাবের অগ্রগতিও ধীর হয়ে গিয়েছে।
মূল্য নির্ধারণের কাঠামো ভারতে স্যাটেলাইট ইন্টারনেট বাণিজ্যিকভাবে চালুর জন্য আবশ্যক। ডিপার্টমেন্ট অফ টেলিকমিউনিকেশন বা ডট (DoT) কাঠামো তৈরি করে ফেললেও, তা এখনও কেন্দ্রীয় মন্ত্রীসভার অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়নি।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, গত বছর স্টারলিঙ্ক তাদের নিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রদর্শন করেছিল, যা টেলিকম কর্তৃপক্ষ ও একটি বিশেষ সরকারি নিরাপত্তা প্যানেলে পর্যালোচনা হয়েছিল। তারপর থেকে ভারতীয় কর্মকর্তারা ইলন মাস্কের সংস্থার থেকে একটা বিষয়ে ব্যাখ্যা চেয়ে আসছেন। তারা জানতে চাইছেন, যদি কোনও বিদেশি রাষ্ট্রের দাবি বা নির্দেশ ভারতের বিপক্ষে যায়, তাহলে স্টারলিঙ্ক ভারতীয় নিরাপত্তা শর্তগুলি মেনে চলবে কিনা।
প্রসঙ্গত, স্টারলিঙ্ক প্রায় এক বছর আগে ভারতে গ্লোবাল মোবাইল পার্সোনাল কমিউনিকেশন বাই স্যাটেলাইট বা জিএমপিসিএস (GMPCS) লাইসেন্স পেয়েছে। এটি সংস্থাটিকে এ দেশে ব্যবসায়িক চুক্তি করতে ও পরিষেবা চালুর প্রস্তুতির অনুমতি দিয়েছে। তারা দশটি গেটওয়ে ও মুম্বইয়ে একটি হাব প্রতিষ্ঠা করেছে। কিন্তু বাণিজ্যিকভাবে পরিষেবা চালুর জন্য এখনও বেশ কয়েকটি অনুমোদন প্রয়োজন। ইরান-আমেরিকা-ইজরায়েল সংঘাত সেই প্রক্রিয়ায় নতুন জটের সৃষ্টি করল।
প্রযুক্তির সাম্প্রতিক খবর আর রিভিউস জানতে লাইক করুন আমাদের Facebook পেজ অথবা ফলো করুন Twitter আর সাবস্ক্রাইব করুন YouTube.