your smartphone may soon work even without mobile towers
Photo Credit: Unsplash/Toan Le
ফোনে নেটওয়ার্ক পেতে গেলে আশেপাশে মোবাইল টাওয়ার থাকা প্রয়োজন। কিন্তু পাহাড়ি এলাকা, প্রত্যন্ত গ্রাম, ও দুর্গম অঞ্চলে নেটওয়ার্ক সাধারণত দুর্বল থাকে। তাই ফোনে কথা বলা বা ইন্টারনেট চালাতে অসুবিধার সম্মুখীন হতে হয়। এই ধরনের সমস্যার কথা মাথায় রেখে বেশ কিছু নতুন সুপারিশ করেছে টেলিকম রেগুলেটরি অথরিটি অফ ইন্ডিয়া বা ট্রাই (TRAI)। যার মধ্যে রয়েছে ডাইরেক্ট-টু-ডিভাইস বা ডি-টু-ডি (D2D) কানেক্টিভিটি। এটি চালু হলে স্মার্টফোন টাওয়ারের পরিবর্তে সরাসরি স্যাটেলাইটের সঙ্গে যুক্ত হয়ে নেটওয়ার্ক পাবে। প্রযুক্তিটি টেলিকম সংস্থা এবং স্যাটেলাইট পরিষেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলির জন্য ব্যবসার নতুন সুযোগ তৈরি করতে পারে বলে মত প্রকাশ করছেন বিশেষজ্ঞরা।
ট্রাই দুই ধরনের ডি-টু-ডি পরিষেবার সুপারিশ করেছে। প্রথমে MSS ভিত্তিক D2D কানেক্টিভিটির কথা বলা হয়েছে, যার পুরো নাম হল মোবাইল স্যাটেলাইট সার্ভিস। এই প্রযুক্তিতে স্মার্টফোন নির্দিষ্ট স্যাটেলাইট ফ্রিকোয়েন্সি ব্যান্ড (L ব্যান্ড বা S ব্যান্ড) ব্যবহার করে সরাসরি কৃত্রিম উপগ্রহের সঙ্গে যুক্ত হয়ে নেটওয়ার্ক পাবে।
বর্তমানে খুব কম ফোনে স্যাটেলাইটের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের ক্ষমতা রয়েছে। সুবিধাটি সব পুরনো ফোনে সফটওয়্যার আপডেটের মাধ্যমে চালু করা সম্ভব নয়। তাই ভবিষ্যতে ভারতে বিক্রি হওয়া স্মার্টফোনে উক্ত প্রযুক্তি ব্যবহারের জন্য দরকারি হার্ডওয়্যার মডিউল যুক্ত করতে নির্মাতাদের উৎসাহ প্রদানের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
অন্য দিকে, ট্রাইয়ের দ্বিতীয় সুপারিশে ইন্টারন্যাশনাল মোবাইল টেলিকমিউনিকেশন বা আইএমটি ভিত্তিক ডাইরেক্ট-টু-ডিভাইস কানেক্টিভিটির কথা বলা হয়েছে। প্রযুক্তিটির সাহায্যে স্যাটেলাইট নেটওয়ার্ক এমন কিছু ব্যান্ড ব্যবহার করতে পারবে, যেগুলো বর্তমানে সাধারণ মোবাইল পরিষেবার জন্য ব্যবহৃত হয়। ফলে উপযুক্ত হার্ডওয়্যার থাকা ফোন সরাসরি স্যাটেলাইটের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করতে পারবে।
পরিষেবাটির জন্য 600 মেগাহার্টজ, 700 মেগাহার্টজ, 800 মেগাহার্টজ,900 মেগাহার্টজ, 1,800 মেগাহার্টজ, ও 2,100 মেগাহার্টজ ব্যান্ড ব্যবহারের অনুমতি দেওয়ার সুপারিশ পাঠিয়েছে তারা। তবে আইএমটি কানেক্টিভিটি চালুর ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্তও রেখেছে ট্রাই। বলা হয়েছে, স্যাটেলাইটের মাধ্যমে পরিষেবা দিতে গিয়ে কোনওভাবেই যেন প্রথাগত মোবাইল নেটওয়ার্কের কাজে বিঘ্ন ঘটানো না হয়।
নতুন নিয়মে অনুমোদনপ্রাপ্ত স্যাটকম প্রতিষ্ঠানগুলি টেলিকম সংস্থাগুলিকে স্যাটেলাইট কানেক্টিভিটির প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো এবং নেটওয়ার্ক পরিষেবা সরবরাহ করতে পারবে। তবে তারা সরাসরি গ্রাহকদের কোনও টেলিকম পরিষেবা দিতে পারবে না। এই দায়িত্ব কেবলমাত্র ভি, জিও, এয়ারটেল, ও বিএসএনএলের মতো কোম্পানিগুলির হাতে থাকবে।
মনে রাখবেন, ট্রাই সুপারিশ করলেই সঙ্গে সঙ্গে যে সব ফোনে স্যাটেলাইট কানেক্টিভিটি চালু হবে, এমনটা নয়। প্রথমে ভারত সরকারকে সুপারিশ গ্রহণ করতে হবে ও পরিষেবা চালুর জন্য নিয়মকানুন পাশ করাতে হবে। এই ধরনের পরিষেবা দেবে কবে ও কীভাবে চালু হবে, তা সরকারের চূড়ান্ত নীতি, নেটওয়ার্ক পরিকাঠামো, ও টেলিকম এবং স্যাটেলাইট সংস্থাগুলির বোঝাপড়ার উপর নির্ভর করছে।
প্রযুক্তির সাম্প্রতিক খবর আর রিভিউস জানতে লাইক করুন আমাদের Facebook পেজ অথবা ফলো করুন Twitter আর সাবস্ক্রাইব করুন YouTube.