Starbucks shuts down its AI inventory system due to work failure
Photo Credit: Unsplash / Asael Peña
বিশ্বজুড়ে এখন কৃত্রিম মেধার দাপট। AI কর্মক্ষেত্রে সঙ্কট সৃষ্টি করেছে। প্রতি মাসে হাজার হাজার চাকরি ছাঁটাই হচ্ছে। ফলে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, AI কি তাহলে সত্যিই মানুষের বিকল্প হয়ে উঠল? তবে Starbucks-এর সাম্প্রতিক অভিজ্ঞতা কিন্তু অন্য কথা বলছে। জনপ্রিয় কফি প্রস্তুতকারী সংস্থাটি তাদের উত্তর আমেরিকার আউটলেটগুলোতে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স চালিত ইনভেন্টরি সিস্টেম চালু করেছিল। এই উদ্যোগের লক্ষ্য ছিল কফি বানানোর জন্য মজুদ কাঁচামাল এবং অন্যান্য সামগ্রীর চেকিং আরও দ্রুত এবং সহজ করা। কিন্তু সঠিকভাবে কাজ করা দূরের কথা, AI সাধারণ প্রোডাক্ট চিনতেই ভুল করছে। অগত্যা নয় মাসের মধ্যে সিস্টেম বন্ধ করে সেই কাজ আগের মতো কর্মীদের দিয়ে ম্যানুয়ালি করাতে বাধ্য হয়েছে স্টারবাককস।
দুধ বা মিষ্টি সিরাপ ফুরিয়ে যাওয়া স্টারবাকস-এর মতো বড় প্রতিষ্ঠানের জন্য শুধু ছোটখাটো সমস্যা নয়। এতে পরিষেবার গতি ধীর হয়ে যেতে পারে, ক্রেতা অসন্তুষ্ট হতে পারেন, এবং বিক্রিও কমে যেতে পারে। ঠিক এই কারণে স্টারবাকস তাদের স্টকরুমে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল।
গত বছর সেপ্টেম্বরে "অটোমেটেড কাউন্টিং সিস্টেমের" সূচনা হয়েছিল। প্রযুক্তি সংস্থা Nomadgo-এর সঙ্গে হাত মিলিয়ে আউটলেটের কার্যপ্রণালী আধুনিকীকরণের উদ্যোগ নিয়েছিল স্টারবাকস। কর্মীরা ক্যামেরা এবং লাইডার প্রযুক্তিযুক্ত ডিভাইস ব্যবহার করে শেল্ফ ও স্টোরেজের জায়গা স্ক্যান করতেন। তারপর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা চালিত সফটওয়্যার স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রোডাক্ট শনাক্ত করে স্টকের হিসাব করত।
কোম্পানির আশা ছিল, AI ইনভেন্টরির হিসাব রাখবে ও কর্মীদের পরিশ্রম কমে অতিরিক্ত সময় গ্রাহক পরিষেবার পিছনে দিতে পারবে। কিন্তু ঘটল ঠিক উল্টো। রয়টার্সের রিপোর্ট অনুসারে, AI সফটওয়্যার একইরকম দেখতে জিনিস শনাক্ত করতে গিয়ে বিভ্রান্ত হয়ে যেত, যে কাজ সাধারণ মানুষের জন্য জলভাত।
ওট মিল্ক, আমন্ড মিল্ক, এবং গরুর দুধ চিনতে বারবার ভুল হচ্ছিল। কখনও সামগ্রী ভুল গণনা হত, আবার কখনও চিনতেই পারত না। ফলে অর্ডার, লম্বা লাইন, ও কাস্টমাইজড ড্রিঙ্কের অর্ডার সামলে স্টারবাকসের বারিস্তাদের AI-এর ভুল সংশোধন করা বাড়তি চাপ হয়ে দাঁড়ায়। কর্মীদের ম্যানুয়ালি ইনভেন্টরি গুনতে হত এবং AI ঠিক হিসাব করছে কিনা, তাও আলাদা করে যাচাই করার দরকার পড়ত।
স্টারবাকস তাদের স্টোরে AI ছাঁটাই করে আবার পুরনো পদ্ধতিতে ফিরে যাচ্ছে, যে ভাবে কর্মীরা স্টক ক্যাটাগরি গুনে থাকেন। কর্মীদের জানানো হয়েছে, পানীয় তৈরির সামগ্রী ও বিভিন্ন প্রকার দুধ অটোমেটেড স্ক্যানিংয়ের পরিবর্তে ফের হাতে গুনেই ইনভেন্টরি চেক করতে হবে। AI সিস্টেম বিদায় নিতে কর্মীরাও হাফ ছেড়ে বেঁচেছেন। এই ঘটনা শিক্ষা দিয়ে গেল যে, AI বাস্তব কাজে সঠিকভাবে প্রয়োগ না করলে কর্মীদের জন্য বাড়তি চাপের কারণ হয়ে উঠতে পারে।
প্রযুক্তির সাম্প্রতিক খবর আর রিভিউস জানতে লাইক করুন আমাদের Facebook পেজ অথবা ফলো করুন Twitter আর সাবস্ক্রাইব করুন YouTube.