সরকার একটি প্রস্তাব পর্যালোচনা করছে, যেখানে সমস্ত স্মার্টফোনে স্যাটেলাইট-ভিত্তিক লোকেশন ট্র্যাকিং সবসময় চালু রাখতে হবে।
Photo Credit: Reuters
কেন্দ্রীয় সরকার স্মার্টফোনে বাধ্যতামূলক অন-লোকেশন ট্র্যাকিং প্রস্তাব পর্যালোচনা করছে
ডিসেম্বরের শুরুতে দেশের প্রতিটি স্মার্টফোনে সঞ্চার সাথী অ্যাপ বাধ্যতামূলক ভাবে প্রি-ইনস্টল করার নির্দেশ দিয়েছিল কেন্দ্রীয় সরকারের টেলিযোগাযোগ দফতর। কিন্তু ওই অ্যাপের মাধ্যমে আদতে নাগরিকদের উপর সরকারের ডিজিটাল নজরদারি বাড়বে বলে দেশজুড়ে অসন্তোষ ও বিতর্ক শুরু হয়। অসম্মতি জানায় মোবাইল ফোন নির্মাতারাও। এর ফলে শেষমেষ পিছু হঠে নির্দেশ প্রত্যাহার করার কথা জানায় কেন্দ্রীয় সরকার। সঞ্চার সাথী নিয়ে বিতর্কের রেশ কাটতেই পুনরায় কেন্দ্রের আরও একটি প্রস্তাব নিয়ে উদ্বেগ শুরু হয়েছে। কারণ সরকার একটি প্রস্তাব পর্যালোচনা করছে, যেখানে সমস্ত স্মার্টফোনে স্যাটেলাইট-ভিত্তিক লোকেশন ট্র্যাকিং সবসময় চালু থাকববে। গ্রাহকরা চাইলেও তা বন্ধ করতে পারবে না।
যদি এই প্রস্তাব বাস্তবায়িত হয়, তাহলে স্মার্টফোন ব্যবহারকারীরা কখনই তাদের লোকেশন অফ রাখতে পারবে না। কখন ও কোথায় যাচ্ছেন, সমস্ত গতিবিধি সরকারের নজরে থাকবে। ফলে এটাও নাগরিকদের ব্যক্তিগত পরিসরে অবিরাম নজরদারি চালানোর একটি প্রয়াস বলে অভিযোগ উঠছে। এটি চালু হলে গ্রাহকদের গোপনীয়তার সুরক্ষা লঙ্ঘিত হবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুসারে, টেলিকম পরিষেবা সংস্থাগুলির সংগঠন সিওএআই (COAI) প্রস্তাব দিয়েছে যে, স্মার্টফোন নির্মাতাদের সবসময় স্যাটেলাইট-ভিত্তিক A-GPS লোকেশন ট্র্যাকিং চালু রাখা বাধ্যতামূলক করা হোক। এর ফলে তদন্তের স্বার্থে অপরাধী ও সন্দেহভাজনদের নির্দিষ্ট অবস্থান সম্পর্কে তথ্য পাওয়া যেমন সহজ হবে, তেমনই জালিয়াতি বা চুরির সঙ্গে যুক্ত ডিভাইস খুঁজে পেতে সুবিধা হবে।
জানিয়ে রাখি, এই A-GPS বা অ্যাসিস্টেড জিপিএস হল একটি উন্নত প্রযুক্তি যা স্যাটেলাইট সিগনাল ও ফোনের টাওয়ারের ডেটা ব্যবহার করে দ্রুত ও নির্ভুল লোকেশন খুঁজে বার করে। প্রস্তাব গৃহীত হলে, কর্তৃপক্ষ যে কোনও নাগরিকের অবস্থান মিটার-স্তরের নির্ভুলতায় বার করতে সক্ষম হবে। বর্তমানে তদন্তের সময় যে পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়, তা সুনির্দিষ্ট অবস্থানের পরিবর্তে কেবল একটি আনুমানিক এলাকা চিহ্নিত করতে সক্ষম।
কিন্তু সঞ্চার সাথীর মতোই অ্যাপল, গুগল, এবং স্যামসাং গ্রাহকদের গোপনীয়তা লঙ্ঘনের আশঙ্কা প্রকাশ করে এই প্রস্তাবে আপত্তি জানিয়েছে। কেন্দ্রীয় বৈদ্যুতিন এবং তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রক বা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এখনও কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছতে পারেনি। আগামী কয়েকদিনের মধ্যে এই বিষয়ে সমস্ত পক্ষকে নিয়ে বৈঠক হওয়ার কথা আছে।
স্মার্টফোনে ইনস্টল করা কোনও অ্যাপ আপনার লোকেশন অ্যাক্সেস করতে চাইলে, একটি পপ-আপ সতর্ককবাতা স্ক্রিনে চলে আসে। কিন্তু নতুন প্রস্তাবে লোকেশন ট্র্যাকিং করার ক্ষেত্রে কোনও নোটিফিকেশন আসবে না, যাতে কেউ বুঝতে না পারে যে তার উপর নজরদারি চালানো হচ্ছে।
জানা গিয়েছে, অ্যাপল এবং গুগলের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করা একটি লবি সরকারকে গোপন চিঠি দিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছে, সবসময় সক্রিয় লোকেশন ট্র্যাকিং এর মতো ব্যবস্থা পৃথিবীর অন্য কোনও দেশে চালু হয়নি। এই ধরনের নিয়ম চালু হলে সাংবাদিক, বিচারক, সামরিক এবং প্রতিরক্ষার মতো সংবেদনশীল পেশায় নিয়োজিত মানুষদের অতিরিক্ত নজরদারির ঝুঁকিতে ফেলবে। কারণ তাদের গতিবিধি নিখুঁতভাবে নির্ণয় করা যাবে।
প্রযুক্তির সাম্প্রতিক খবর আর রিভিউস জানতে লাইক করুন আমাদের Facebook পেজ অথবা ফলো করুন Twitter আর সাবস্ক্রাইব করুন YouTube.
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
Huawei Mate 90 Series Launch Timeline Revealed in New Leak; Mate XT 2 May Arrive Separately
Xiaomi, Apple, Google Reportedly Join Hands to Advance Qi 50W Wireless Charging Standard