Parliamentary panel proposes KYC-based user verification for social media, dating, and gaming apps.
Photo Credit: Unsplash/Julian
আট থেকে আশি, এখন সবার অবাধ বিচরণ সোশ্যাল মিডিয়াতে। কিন্তু সামাজিক গণমাধ্যমের প্রসারের সাথে সাথে ভুয়ো অ্যাকাউন্টের রমরমা বাড়ছে। নকল নাম ও ছবি দিয়ে প্রোফাইল খুলে মহিলা এবং অপ্রাপ্তবয়স্কদের সাথে বাঁদরামির প্রচুর ঘটনা সামনে আসছে। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলোতে এমন হয়রানি ও ক্ষতিকর কনটেন্টের ঝুঁকি কমাতে নারীর ক্ষমতায়ন সংক্রান্ত সংসদীয় কমিটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ করেছে। সোশ্যাল মিডিয়া, ডেটিং, এবং গেমিং অ্যাপের জন্য কঠোর KYC ভিত্তিক পরিচয় যাচাই ও বয়েস নিশ্চিতকরণ বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব দিয়েছে তারা। এই প্রস্তাবনার মূল লক্ষ্য ভুয়ো অ্যাকাউন্টের অপব্যবহার কমিয়ে অনলাইন জগতকে আরও নিরাপদ করে তোলা।
রিপোর্ট অনুসারে, কমিটি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়কে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারকারীদের ভেরিফিকেশন বাধ্যতামূলক করার সুপারিশ জানিয়েছে। কমিটির মতে, পরিচয় যাচাই করা হলে ভুয়ো প্রোফাইল খুলে অনলাইনে বিরক্ত করা, ভয় দেখানো, কটূক্তি, ও অপমান করার মতো ঘটনা কমে যাবে। সংসদীয় কমিটির আরও প্রস্তাব, নিয়মিত পরিচয় রি-ভেরিফিকেশন চালু করতে হবে। সে ক্ষেত্রে লাগতে পারে আধার বা প্যানের মতো নথি।
এছাড়াও, কমিটির দাবি, বারবার অভিযোগ আসে এমন অ্যাকাউন্টগুলিকে হাই-রিস্ক হিসেবে চিহ্নিত করতে হবে। ডেটিং ও গেমিং প্ল্যাটফর্মের ক্ষেত্রেও আরও কঠোর লাইসেন্সিং গাইডলাইন চালুর আহ্বান জানানো হয়েছে। পাশাপাশি, বয়স যাচাই ব্যবস্থা বাধ্যতামূলক করার সুপারিশ দেওয়া হয়েছে।
বর্তমানে ইনস্টাগ্রাম এবং ফেসবুকের মতো জনপ্রিয় সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে নোংরা কনটেন্টের ভিড়। সাইবার স্টকিং, ট্রোলিং, ও অনুমতি ছাড়াই ব্যক্তিগত কনটেন্ট ছড়িয়ে সামাজিক মর্যাদা নষ্ট করার মতো ঘটনা দিন দিন বাড়ছে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এই ধরনের অপরাধ ছদ্মবেশী ভুয়ো অ্যাকাউন্ট থেকে পরিচালনা করা হচ্ছে। তাই ইউজারদের পরিচয় যাচাই সম্ভব হলে এমন ঘটনা কমবে বলে মনে করছে নারীর ক্ষমতায়ন সংক্রান্ত সংসদীয় কমিটি।
তবে এই প্রস্তাব ঘিরে গোপনীয়তা ও ডেটা সুরক্ষার অধিকার ঘিরে নতুন করে বিতর্কের ঝড় উঠতে পারে। সমালোচকদের একাংশের দাবি, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে ইউজারদের KYC বাধ্যতামূলক করার আড়ালে আসলে নাগরিকদের ব্যক্তিগত পরিসরে নজরদারির পথ খোলা রাখছে সরকার। একবার ডেটা ব্রিচ হলে ভারতীয়দের সংবেদশনীল তথ্য শত্রু বা ভয়ঙ্কর হ্যাকারদের হাতে চলে গিয়ে ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
এছাড়াও, যাদের বৈধ পরিচয়পত্র নেই, তারা সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলি ব্যবহারের সুবিধা হারাতে পারেন। তবে এটা আপাতত সুপারিশের পর্যায়েই রয়েছে। ভারত সরকার নতুন নিয়ম চালু করবে কিনা, তা স্পষ্ট নয়। গত বছর সঞ্চার সাথী' অ্যাপ স্মার্টফোনে বাধ্যতামূলক ভাবে প্রি-ইনস্টল করার নির্দেশ দিলেও, বিতর্কের মুখে পড়ে তা পরে প্রত্যাহার করে নিয়েছিল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সরকার।
প্রযুক্তির সাম্প্রতিক খবর আর রিভিউস জানতে লাইক করুন আমাদের Facebook পেজ অথবা ফলো করুন Twitter আর সাবস্ক্রাইব করুন YouTube.