Amazon AI smartphone is expected to come with built-in Alexa
Photo Credit: Unsplash/ Marques Thomas
Amazon এক দশকের আগের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে স্মার্টফোনের বাজারে নতুন ইনিংস শুরু করতে চলেছে। মূলত অনলাইন শপিং প্ল্যাটফর্ম হিসেবে পরিচিত হলেও, Fire TV স্টিক ও Echo স্পিকারের মতো বিভিন্ন স্মার্ট ডিভাইস তৈরি করে মার্কিন সংস্থাটি। রিপোর্ট অনুসারে, অ্যামাজনের নতুন স্মার্টফোন প্রকল্পের অভ্যন্তরীণ নাম "Transformer" রাখা হয়েছে। দাবি করা হচ্ছে, ই-কমার্স জায়ান্টটি আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স চালিত এমন একটি ফোন তৈরি করতে চাইছে, যা ভয়েস কমান্ড বা কন্ঠস্বরের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত হবে। আর গোটা সিস্টেমের পুরোধা হবে Alexa (অ্যালেক্সা)। অর্থাৎ এই ভার্চুয়াল অ্যাসিস্ট্যান্টের মাধ্যমে ফোনে হাত না দিয়েই কল করা, মেসেজ পাঠানো, অ্যাপ খোলা, ও অনলাইন শপিং-এর মতো কাজ করা যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
2014 সালে Fire Phone (ফায়ার ফোন)-এর হাত ধরে স্মার্টফোনের জগতে যাত্রা শুরু করেছিল অ্যামাজন। ফোনটির Fire OS অপারেটিং সিস্টেমকে Android ও iOS-এর বিকল্প হিসেবে তুলে ধরতে চেয়েছিল সংস্থা। অনেক প্রত্যাশা তৈরি হলেও ডিভাইসটি সফল হয়নি। আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়ে বাধ্য হয়েই 2015 সালে ফোনের বাজারকে বিদায় জানাতে হয় অ্যামাজনকে।
রয়টার্সের প্রতিবেদন থেকে জানা গিয়েছে, অ্যামাজনের নতুন যুগের স্মার্টফোনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মুখ্য ভূমিকা পালন করবে। বর্তমানে একটি স্মার্টফোনে ভিন্ন ভিন্ন কাজের জন্য আলাদা অ্যাপ ইন্সটল করতে হয়। কিন্তু অ্যাপের বদলে ভয়েস-ভিত্তিক নেভিগেশনে জোর দিচ্ছে জেফ বেজোসের সংস্থা। স্রেফ মুখে বলে শপিং, ভিডিও স্ট্রিমিং, অনলাইনে কেনাকাটা সহ দৈনন্দিন কাজ করা সম্ভব হবে।
অ্যামাজনের এই পরিকল্পনায় অ্যালেক্সা কেন্দ্রীয় ভূমিকা নেবে। তবে এটি প্রাইমারি অপারেটিং সিস্টেম হিসেবে কাজ নাও করতে পারে। প্রধান OS-এর উপর একটি আলাদা লেয়ার বা ইন্টারফেস হিসেবে যুক্ত হতে পারে। ফায়ার ফোন ব্যর্থ হওয়ার অন্যতম কারণ ছিল গুগল পরিষেবার অভাব। অ্যান্ড্রয়েডের মতো জনপ্রিয় অ্যাপ না থাকার কারণে ক্রেতারা ফোন কিনতে আগ্রহী হয়নি৷ তাই অ্যামাজন তাদের AI ফোনে প্রচলিত অ্যাপ স্টোরের উপর নির্ভরতা কমিয়ে আনার চেষ্টা করছে।
জল্পনা বাড়িয়ে Nothing-এর CEO কার্ল পেই সম্প্রতি ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন, "অ্যাপ ধীরে ধীরে নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে৷ AI এজেন্টই হল স্মার্টফোনের ভবিষ্যত।" ট্রান্সফর্মার স্মার্টফোন প্রকল্পটি পরিচালনা করছে জিরোওয়ান (ZeroOne)। অ্যামাজনের এই ডিভিশন পরীক্ষামূলক ডিভাইস নিয়ে কাজ করার জন্য পরিচিত। দলের নেতৃত্বে রয়েছেন জে অ্যালার্ড, যিনি পুর্বে মাইক্রোসফটের সাথে যুক্ত ছিলেন।
Amazon ফোনটি কবে লঞ্চ করবে বা দাম কেমন রাখবে, তা এখনও জানা যায়নি। তবে এটি সংস্থার কর্ণধার জেফ বেজোসের ভবিষ্যত পরিকল্পনার একটি অংশ, যেখানে ফোন ব্যবহার করতে হলে আর অ্যাপের উপর নির্ভর করতে হবে না। এই কনসেপ্ট সফল হলে স্মার্টফোন ব্যবহারের পদ্ধতি সম্পুর্ণ পাল্টে যেতে পারে।
প্রযুক্তির সাম্প্রতিক খবর আর রিভিউস জানতে লাইক করুন আমাদের Facebook পেজ অথবা ফলো করুন Twitter আর সাবস্ক্রাইব করুন YouTube.