Google Pixel 11 ও iPhone 17-এর মধ্যে সব পার্থক্য তুলে ধরা হল, যাতে আপনি সঠিক ফোন বেছে নিতে পারেন।
Google Pixel 11 vs iPhone 17 comparison
Google Pixel 11 সিরিজ বুধবার লঞ্চ হয়েছে। এই লাইনআপের চারটি ফোনই ভারতে এসেছে। যার মধ্যে রয়েছে Pixel 11, Pixel 11 Pro, Pixel 11 Pro XL, ও Pixel 11 Pro Fold। স্ট্যান্ডার্ড Pixel 11 সরাসরি Apple iPhone 17 মডেলের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করবে, যা গত বছর সেপ্টেম্বরে ভারতে এসেছিল। iPhone 18 সিরিজ বাজারে আসতে হাতে আর মাত্র এক মাস রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে গুগলের নতুন ফ্ল্যাগশিপ ফোন লঞ্চ বেশ কৌশলগত ও সময়োপযোগী বলে মনে করা হচ্ছে। এই প্রতিবেদনে Google Pixel 11 ও iPhone 17-এর মধ্যে সমস্ত পার্থক্য তুলে ধরা হল, যাতে আপনার প্রয়োজন অনুসারে সঠিক ফোন বেছে নিতে সুবিধা হয়।
Pixel 11 তিনটি রিয়ার ক্যামেরা পেয়েছে। এটি ম্যাক্রো ফোকাস এবং f/1.70 অ্যাপারচার সহ 48 মেগাপিক্সেল প্রাইমারি ক্যামেরা 13 মেগাপিক্সেলের আল্ট্রাওয়াইড লেন্স, ও 10.8 মেগাপিক্সেল টেলিফটো ক্যামেরা (5x অপটিক্যাল জুম) দিয়ে সজ্জিত। সামনে একটি 10.5 মেগাপিক্সেল ক্যামেরা আছে।
অন্য দিকে, iPhone 17 ডুয়াল রিয়ার ক্যামেরা দিয়ে সজ্জিত পেয়েছে। এতে সেন্সর-শিফ্ট অপটিক্যাল ইমেজ স্ট্যাবিলাইজেশন (OIS) এবং f/1.6 অ্যাপারচারযুক্ত 48 মেগাপিক্সেল প্রাইমারি ক্যামেরা ও 48 মেগাপিক্সেলের আল্ট্রাওয়াইড লেন্স আছে। সামনে 18 মেগাপিক্সেলের সেন্টার স্টেজ সেলফি ক্যামেরা বর্তমান।
টেলিফটো ক্যামেরা দুই ফোনকে অনেকটা আলাদা করেছে। Pixel 17-এর ডেডিকেটেড টেলিফটো লেন্স iPhone 17-এর তুলনায় অনেক বেশি জুম করে দূরের কোনও বস্তুর ছবি স্পষ্টভাবে তুলতে সাহায্য করবে। তবে iPhone 17 দুটি উচ্চ রেজোলিউশনের 48MP ক্যামেরা দিয়ে সজ্জিত। এর ফলে সাধারণ ছবি তোলার ক্ষেত্রে খাতায়-কলমে iPhone 17 এগিয়ে। এছাড়াও, সেলফি ক্যামেরার দিক থেকেও আইফোনের অ্যাডভ্যান্টেজ।
Apple এবং Google তাদের ফোনে চিপসেটের ক্ষেত্রে ভিন্ন পদ্ধতি অনুসরণ করে। অ্যাপল সাধারণত সর্বোচ্চ পারফরম্যান্স প্রদানের প্রতি বেশি গুরুত্ব দেয়, যেখানে গুগল আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স নির্ভর ফিচার্সকে কেন্দ্র করে তৈরি। Pixel 11 নতুন Tensor G6 প্রসেসর এবং 12 জিবি র্যাম পেয়েছে। iPhone 17 চলে Apple A19 প্রসেসর এবং 8 জিবি র্যামে।
র বেঞ্চমার্কের হিসেবে দেখলে, অতীতে Apple A সিরিজ প্রসেসর Google Tensor সিরিজের তুলনায় যথেষ্ট এগিয়ে ছিল। তবে টেনসেরের শক্তি এআই প্রসেসিংয়ে লুকিয়ে। থার্ড পার্টি বেঞ্চমার্ক ডেটা প্রকাশিত হলে দুই ফোনের কর্মদক্ষতার মধ্যে তুলনা আরও স্পষ্ট হবে।
এআই ফিচার্সের নিরিখে গুগল পিক্সেল 11-এর থেকে অনেকটা পিছিয়ে আইফোন 17। পিক্সেল 11 জেমিনাই ইন্টেলিজেন্সকে কেন্দ্র করে তৈরি। জেমিনাই ন্যানো ডিভাইসে রান করার ফলে প্রচুর এআই ফিচার্স ফোনেই ব্যবহার করা যায়। যার মধ্যে রয়েছে ম্যাজিক ক্যাপচার, সার্কেল টু সার্চ, ও লাইভ ট্রান্সলেট। ফোনটি Android 17 অপারেটিং সিস্টেম দ্বারা পরিচালিত।
iPhone 17 মডেলে iOS 26 ও Apple Intelligence রয়েছে। তবে Apple-এর AI ফিচার ব্যবহারকারীদের প্রত্যাশা সম্পূর্ণরূপে পূরণ করতে পারেনি। কোম্পানি অবশ্য iOS 27-এর বিটা ভার্সনে উন্নত Siri নিয়ে কাজ করছে। এছাড়াও, নতুন ফাউন্ডেশন মডেলের মাধ্যমে AI ক্ষমতা উন্নত করার চেষ্টা চলছে।
গুগল পিক্সেল 11 ফুল-এইচডি+ রেজোলিউশনের 6.3 ইঞ্চি ওলেড ডিসপ্লে পেয়েছে। এটি 120 হার্টজ রিফ্রেশ রেট, 3,000 নিট পিক ব্রাইটনেস, কর্নিং গরিলা গ্লাস 2 ভিক্টাস প্রোটেকশন, এবং HDR সাপোর্ট করে। এটি 8.6 মিমি পুরু ও ওজন 197 গ্রাম।
আইফোন 17-এ 6.3 ইঞ্চি এলটিপিও সুপার রেটিনা ওলেড ডিসপ্লে আছে৷ এটি 120 হার্টজ রিফ্রেশ রেট, 3,000 নিট পিক ব্রাইটনেস, সেরামিক শিল্ড 2 কভার, HDR10+, এবং ডলবি ভিশন অফার করে। এটি 7.95 মিমি পুরু ও ওজন 177 গ্রাম।
iPhone 17-এর ক্ষেত্রে 30 ঘন্টা ভিডিও প্লেব্যাকের দাবি করছে Apple। আবার Pixel 11-এর ক্ষেত্রেও একই কথা বলছে Google। 30W চার্জারে 55 শতাংশ চার্জ হতে Pixel 11 সময় নেবে 30 মিনিট। অন্য দিকে, iPhone 17 একটি 40W চার্জারে 20 মিনিটের মধ্যে 50 শতাংশ চার্জ হবে। দুই ফোনেই 25W পর্যন্ত ওয়্যারলেস চার্জিং সাপোর্ট থাকছে।
Pixel 11 ভারতে 89,999 টাকায় লঞ্চ হয়েছে। এটি 12 জিবি র্যাম এবং 256 জিবি স্টোরেজ অফার করে। 12 জিবি র্যাম এবং 512 জিবি স্টোরেজ কনফিগারেশনের মূল্য 1,04,999 টাকা। iPhone 17-এর 256 জিবি এবং 512 জিবি স্টোরেজ অপশন যথাক্রমে 82,900 টাকা ও 1,02,900 টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
শুধু স্পেসিফিকেশন দেখলে Google Pixel 11 এবং iPhone 17-এর মধ্যে বেশি পার্থক্য খুঁজে পাওয়া যাবে না। তবে কয়েকটি ক্ষেত্রে iPhone 17 স্পষ্টভাবে এগিয়ে। এটি দামে সস্তা, ওজনে হালকা, আরও শার্প ডিসপ্লে, ও উন্নত ভিডিও রেকর্ডিং অফার করে। Pixel 11-এর বেঞ্চমার্ক প্রকাশিত হলে দুই ফোনের প্রসেসিং পারফরম্যান্স নিয়ে আরও বিস্তারিত তুলনা সম্ভব হবে।
অন্য দিকে, Pixel 11-এর অ্যাডভ্যান্টেজ AI ফিচার ও ক্যামেরার উচ্চতর জুম ক্ষমতায়। তাই এই দুই ফোনের মধ্যে কোনটা কিনবেন, তা একান্তই আপনার ব্যক্তিগত প্রয়োজন ও চাহিদার উপর নির্ভর করছে।
প্রযুক্তির সাম্প্রতিক খবর আর রিভিউস জানতে লাইক করুন আমাদের Facebook পেজ অথবা ফলো করুন Twitter আর সাবস্ক্রাইব করুন YouTube.
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
Vivo X500 Pro Max Reportedly Bags 3C Certification, Charging Speed Revealed
CD Projekt Red Confirms Layoffs at Project Sirius Witcher Multiplayer Spinoff