জার্মান গবেষকদের তৈরি লিকুইড কম্পিউটটার সিস্টেম "রিজার্ভয়ার কম্পিউটিং" নামে পরিচিত একটি নীতির উপর কাজ করে।
Photo Credit: Unsplash/ Growtika
Liquid Computer is still far from a functional device
কম্পিউটার আমাদের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে। এই যন্ত্র ছাড়া একটা মুহূর্ত কল্পনা করা কঠিন। তবে কখনও কি শুনেছেন, জল বা সেই জাতীয় তরল দিয়ে কম্পিউটার চালানো সম্ভব। বাস্তবে অবিশ্বাস্য বলে মনে হলেও, জার্মানির একদল গবেষক এমনই একটি নতুন প্রযুক্তি তৈরি করতে সমর্থ হয়েছেন, যা ভবিষ্যতে কম্পিউটিংয়ের ধারণাই বদলে দিতে পারে। তাঁরা একটি লিকুইড কম্পিউটার (Liquid Computer) বানিয়েছেন, যেখানে সিলিকন চিপ বা ট্রানজিস্টর প্রয়োজন হয় না। বিশেষ তরলের মধ্যে ডুবে থাকা শত শত অতি ক্ষুদ্র কণা বা মাইক্রোস্কোপিক পার্টিকল একসঙ্গে মিলে তথ্য প্রক্রিয়াকরণ সম্পন্ন করে।
এতদিন যা শুধুই কল্পবিজ্ঞান কাহিনীর বিষয় বলে মনে হত, সেটাই এবার বাস্তবে করে দেখিয়েছেন জার্মানির ইউনিভার্সিটি অফ কনস্টান্স এবং ইউনিভার্সিটি অফ স্টুটগার্টের গবেষকরা। রিপোর্ট থেকে জানা গিয়েছে, তাঁদের তৈরি নতুন লিকুইড কম্পিউটটার সিস্টেম "রিজার্ভয়ার কম্পিউটিং" নামে পরিচিত একটি নীতির উপর কাজ করে।
ওই প্রযুক্তিতে প্রথমবারের মতো মাইক্রোস্কোপিক মাল্টি পার্টিকল সিস্টেম ব্যবহার করা হয়েছে। বর্তমানে বাজারে যত ডেস্কটপ বা ল্যাপটপ রয়েছে, সেগুলোতে সিলিকন চিপ, ট্রানজিস্টর, ও ইলেকট্রনিক সার্কিট একসঙ্গে মিলে গণনায় সাহায্য করে। কিন্তু লিকুইড কম্পিউটার সিস্টেমে প্রচলিত সার্কিটের দরকার হয় না।
গবেষকরা বিশেষ তরল এবং ক্ষুদ্র কণার পারস্পরিক ক্রিয়া ও চলাচলকে কাজে লাগিয়েছেন। এই পদ্ধতিতে তথ্য বহন ও কম্পিউটেশন সম্ভব হয়েছে। একটি সহজ উদাহরণের মাধ্যমে বিষয়টি ব্যাখ্যা করা যেতে পারে। পুকুরে পাথর ছোড়ার পর দেখা যায়, সেটি জলের উপর পড়ার সাথে সাথে চারিদিকে ঢেউ বৃত্তাকার আকারে ছড়িয়ে পড়ে।
সেই ঢেউগুলি একে অপরের সঙ্গে মিশে কিছু নির্দিষ্ট প্যাটার্ন তৈরি করে। প্যাটার্নটি বিশ্লেষণ করলে প্রতিটি ঢেউয়ের পদার্থবিদ্যা আলাদা হিসাব না করে পাথর সম্পর্কে তথ্য জানা সম্ভব। জার্মান গবেষকরা একই নীতিতে তরলের মধ্যে থাকা কয়েকশো অতি ক্ষুদ্র কণা প্রিয় বৃত্তাকার পথে ঘুরিয়েছেন। পরীক্ষায় ইলেকট্রন প্রবাহের বদলে তরলের প্রবাহ ও কণাগুলির আচরণ গণনার ভিত্তি হিসেবে কাজ করেছে।
প্রযুক্তিটি অবশ্য এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে আছে এবং শুধুমাত্র গবেষণাগারে সীমাবদ্ধ। তবে বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, ভবিষ্যতে কম্পিউটিং শুধু ইলেকট্রনিক চিপের উপর নির্ভর করবে না। প্রাকৃতিক ভৌত প্রক্রিয়ার মাধ্যমেও তথ্য বহন ও প্রক্রিয়াকরণ সম্ভব হবে। এটি কম বিদ্যুৎ খরচের কম্পিউটিং ব্যবস্থা ও ইন্টেলিজেন্ট সেন্সর তৈরির নতুন পথ উন্মুক্ত করতে পারে।
প্রযুক্তির সাম্প্রতিক খবর আর রিভিউস জানতে লাইক করুন আমাদের Facebook পেজ অথবা ফলো করুন Twitter আর সাবস্ক্রাইব করুন YouTube.
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
Samsung Galaxy S26 FE Camera Specifications Leaked Ahead of Expected Launch, May Reuse Its Predecessor's Main Rear Camera