Apple এখনও পর্যন্ত মোট আট জন CEO পেয়েছে।
Photo Credit: Unsplash/Guillaume Bleyer
A timeline of Apple CEOs
পয়লা সেপ্টেম্বর Apple-এর নেতৃত্বে পরিবর্তন এসেছে। মার্কিন টেক জায়ান্টটিকে চার ট্রিলিয়নের বাজারমূল্যে নিয়ে যেতে বড় ভূমিকা নেওয়া টিম কুক (Tim Cook) অবসর নিয়েছেন। তাঁর জায়গায় সংস্থার নতুন চিফ এক্সিকিউটিভ অফিসার বা সিইও হয়েছেন জন টার্নাস (John Ternus)। তিনিই এখন প্রতিষ্ঠানটির সর্বোচ্চ পর্দমর্যাদার কর্তা। Apple-এর দীর্ঘমেয়াদী লক্ষ্য থেকে ব্যবসায়িক পরিকল্পনা তৈরি ও সার্বিক কার্যক্রম তাঁর তত্ত্বাবধানেই পরিচালনা হবে। এখনও পর্যন্ত মোট আট জন সিইও পেয়েছে মার্কিন সংস্থাটি। টার্নাস, কুক, ও স্টিভ জোবসের নামের সঙ্গে মোটামুটি সবাই পরিচিত। আর বাকি পাঁচ জন কারা? সংস্থার সাফল্য বা ব্যর্থতায় কেমন অবদান ছিল তাদের? জেনে নিন।
অ্যাপলের ইতিহাসে প্রথম চিফ এক্সিকিউটিভ অফিসার হলেন মাইকেল স্কট। তিনি সিইও হওয়ার আগে ন্যাশনাল সেমিকন্ডাক্টর-এ ম্যানুফ্যাকচারিং ডিরেক্টর ছিলেন। অ্যাপলের প্রতিষ্ঠাতা ও সহ-প্রতিষ্ঠাতা স্টিভ জোবস ও স্টিভ ওজনিয়াক দু'জনকেই তখন অনভিজ্ঞ। তাই সিইও পদের জন্য স্কটকে রাজি করানো হয়েছিল। তিনি চার বছর অ্যাপলে কাটিয়ে 1981 সালের জুলাইয়ে পদত্যাগ করেন।
অ্যাপলের দ্বিতীয় সিইও মাইকেল মার্ককুলা। তরুণ স্টিভ জোবস ও স্টিভ ওজনিয়াকের গাইড হিসেবেও পরিচিত ছিলেন তিনি। অ্যাপলে প্রথম বড় বিনিয়োগ থেকে শুরু করে ম্যানেজারের সাপোর্ট, সবেতেই তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। কোম্পানি প্রতিষ্ঠার সময় মার্ককুলার হাতে অ্যাপলের 26 শতাংশ শেয়ার ছিল।
প্রশিক্ষিত ইঞ্জিনিয়ার হওয়ায় মার্ককুলার প্রযুক্তিগত দক্ষতা নিয়ে কোনও সংশয় ছিল না। তিনি Apple II কম্পিউটারের শুরুর দিকে বেশ কিছু প্রোগ্রাম নিজেই লিখেছিলেন। সংস্থার হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যার বিটা টেস্টার হিসেবেও কাজ করেছেন। 1997 সাল পর্যন্ত Apple-এর বোর্ড অফ ডিরেক্টর্স পদে ছিলেন তিনি।
অ্যাপলের তৃতীয় সিইও ছিলেন জন স্কুলি। জোবসই তাঁকে পেপসি থেকে অ্যাপলে আসতে রাজি করান। মার্কেটিংয়ে খুব দক্ষ ছিলেন তিনি। জোবস সেই দক্ষতা পার্সোনাল কম্পিউটারের বাজারে লাগাতে চেয়েছিলেন। কিন্তু দু'জনের মধ্যে ক্ষমতা নিয়ে সংঘাত বাঁধতে বেশি সময় লাগেনি।
কাজ পাগল জোবস অনেক সময় রাত পেরিয়ে মিটিং চালিয়ে যেতেন, লম্বা ফ্যাক্স পাঠাতেন, ভোরে মিটিং ডাকতেন। এমনই সব কাজের জন্য জোবসকে সামলাতে স্কুলিকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। কিন্তু স্কুলির কথা মেনে চলার পরিবর্তে উল্টে জোবস তাঁকে কোম্পানি থেকে সরানোর চেষ্টা করেন।
পরিকল্পনার কথা জানতে পেরে বোর্ড মিটিং ডাকেন স্কুলি। সেখানে অন্যান্য ডিরেক্টররা তাঁরই পক্ষ নিয়ে জোবসকে সমস্ত দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেয়। তারপর জোবসও পদত্যাগ করেন এবং 1997 সালের আগে পর্যন্ত পর্যন্ত আর সংস্থায় ফেরেননি। স্কুলির নেতৃত্বে অ্যাপলের ব্যবসায় ঘুরে দাঁড়ায়। 1983 সালে 982 মিলিয়ন ডলার থেকে 1993 সালে সংস্থার বিক্রি 7.9 বিলিয়ন ডলারে পৌঁছে ছিল।
কিন্তু 1993 সালের তৃতীয় ত্রৈমাসিকে খারাপ ব্যবসায়িক ফলাফল এবং বিভিন্ন অভ্যন্তরীণ মতবিরোধের জেরে অ্যাপলের বোর্ড অফ ডিরেক্টররা শেষ পর্যন্ত স্কুলিকে সিইও পদ থেকে সরিয়ে দেয়।
1993 সালের অক্টোবর মাসে স্কুলিকে সরানোর পর সংস্থার নতুন সিইও হিসেবে জার্মান বংশোদ্ভূত মাইকেল স্পিন্ডলারকে বেছে নেওয়া হয়। 1980 সালে প্রথম অ্যাপলে যোগ দেন তিনি। কাজের প্রতি নিষ্ঠার জন্য পরিচিত ছিলেন স্পিন্ডলার। তিনি সিইও হওয়ার আগে অ্যাপলের আর্ন্তজাতিক ব্যবসার প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব সামলেছেন।
স্পিন্ডলারের আমলে Apple-এর বেশ কয়েকটি প্রকল্প সফলভাবে বাস্তবায়িত হয়েছিল। যার মধ্যে অন্যতম ছিল PowerPC। কিন্তু তাঁর সময়ে Newton ও Coolpad অপারেটিং সিস্টেমের মতো বেশ কিছু বড় ব্যর্থতার মুখোমুখি হতে হয়েছিল সংস্থাকে।
অ্যাপলের অন্যতম কঠিন সময়ের সিইও ছিলেন অ্যামেলিও। তাঁর সময়ে সংস্থার শেয়ারদর 12 বছরে সর্বনিম্ন স্তরে নেমে গিয়েছিল। কোম্পানিকে ঘুরে দাঁড় করানোর আশায় তাকে সিইও করা হলেও, তিনি বিশেষ কিছু করে উঠতে পারেননি। অ্যাপলের প্রয়োজন ছিল এমন একজনের যিনি নতুন চিন্তাভাবনা এবং দিশা দেখাবেন। সেটা অ্যামেলিও পারেননি।
1997 সালে অ্যামেলিওর নেতৃত্বে 1.6 বিলিয়ন ডলার ক্ষতির সম্মুখীন হয় কোম্পানি। ফলে তাঁকে পদ থেকে সরানো অবশ্যম্ভাবী হয়ে ওঠে। ততদিনে স্টিভ জোবসের নামডাক বেড়েছে। তিনি Pixer পরিচালনার মাধ্যমে বিলিওনেয়ার হয়েছেন। জোবস অ্যাপলের বোর্ডকে বোঝান, অ্যামেলিও দায়িত্ব পালনের উপযুক্ত নন। বৈঠকের এক সপ্তাহ পরেই জোবস ইন্টেরিম সিইও হিসেবে দায়িত্ব নেন।
1976 সালের এপ্রিলে জোবসের বাবা-মায়ের গ্যারেজে জন্ম নিয়েছিল অ্যাপল। প্রতিষ্ঠার 20 বছর অবশেষে নিজের হাতে গড়ে তোলা সংস্থার চিফ এক্সিকিউটিভ অফিসার হন জোবস। তাঁর নেতৃত্বে অ্যাপলের নতুন অধ্যায় শুরু হয়। বলা যেতে পারে স্বর্ণযুগের শুরু। আজকের দিনে Apple যে জায়গায় দাঁড়িয়ে, তা জোবস না থাকলে সম্ভব হত না।
জোবসের নেতৃত্বে একে একে ম্যাক, আইটিউনস, অ্যাপ স্টোর, আইপড, ও আইপ্যাডের মতো যুগান্তকারী পণ্য বাজারে আনে সংস্থা। আইফোনের আত্মপ্রকাশকে তো কনজিউমার ইলেকট্রনিক্সের জগতে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হিসেবে দেখা হয়। 2011 সালের আগস্টে শারীরিক অসুস্থতার জন্য সিইও পদ ছেড়ে দেন স্টিভ জোবস। তাঁর জায়গায় আসেন টিম কুক।
স্টিভ জোবসের হাত ধরে যে সাফল্য শুরু হয়েছিল, তাকে পূর্ণতা দেয় টিম কুকের নেতৃত্ব। তাঁর সময়ে 2018 সালের আগস্টে বিশ্বের প্রথম ট্রিলিয়ন ডলার বাজারমূল্যের কোম্পানির খেতাব পায় Apple। এখন সেই মার্কেট ভ্যালু 4 ট্রিলিয়নের বেশি। কুককে বিশ্বের অন্যতম সফল টেক সিইও হিসেবে গণ্য করা হয়।
টিম কুকের সময়ে Apple তাদের পণ্যের পরিসর আরও বাড়িয়েছে। সংস্থা এয়ারপডস, অ্যাপল ওয়াচ, অ্যাপল ভিশন প্রো, ও এয়ারট্যাগের মতো একাধিক নতুন পণ্য লঞ্চ করেছে। এছাড়াও, ম্যাক ডিভাইসের জন্য যুগান্তকারী সিলিকন চিপ ও পরিষেবা সম্পর্কিত ব্যবসা বিস্তারিত করেছে। এখন সিইও পদে না থাকলেও কোম্পানির এক্সিকিউটিভ চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন তিনি।
গত এপ্রিলেই টিম কুকের উত্তরসূরীর হিসেবে জন টার্নাসের নাম ঘোষণা হয়েছিল। পয়লা সেপ্টেম্বর থেকে Apple-এর চিফ এগজিকিউটিভ অফিসার পদে দায়িত্ব নিয়েছেন জন টার্নাস। 2001 সালে সংস্থায় যোগ দেন তিনি। 2021 থেকে ব্র্যান্ডের হার্ডওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং ডিপার্টমেন্টের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব সামলেছেন। আইফোন, আইপ্যাড, ও ম্যাকবুক-সহ বিভিন্ন পণ্যের যান্ত্রিক দিক দেখাশোনার গুরুদায়িত্ব ছিল তাঁর কাঁধে। টার্নাসের নেতৃত্বে কী কী উদ্ভাবন জন্ম নেয়, সে দিকে নজর থাকবে গোটা বিশ্বের।
প্রযুক্তির সাম্প্রতিক খবর আর রিভিউস জানতে লাইক করুন আমাদের Facebook পেজ অথবা ফলো করুন Twitter আর সাবস্ক্রাইব করুন YouTube.
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
Samsung Galaxy Watch 9 (44mm, LTE)
Starts from ₹44,999
Samsung Galaxy Watch 9 (40mm, LTE)
Starts from ₹37,999
Samsung Galaxy Watch 9 (40mm)
Starts from ₹37,999
Haier M70 Mini LED 65-inch
Starts from ₹74,990
CMF Buds Neo True Wireless Stereo (TWS) Earphones
Starts from ₹2,199
Xiaomi TV FX Mini LED 65
Starts from ₹64,999