Artemis II মিশন ভারতীয় সময় ভোরবেলায় ফ্লোরিডার কেনেডি মহাকাশ গবেষণা কেন্দ্র থেকে লঞ্চ করা হয়েছে।
Photo Credit: NASA
NASA says Artemis II will pave the way for future Moon and Mars landing
Artemis II Mission: 1972 সালের পর 2026, পাঁচ দশকের বেশি সময় পর আবারও চাঁদের উদ্দেশে মানুষ পাঠানোর অভিযান শুরু করল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। এপ্রিল 1, বুধবার সন্ধ্যায় আমেরিকার ফ্লোরিডার কেনেডি মহাকাশ গবেষণা কেন্দ্র থেকে (ভারতীয় সময় এপ্রিল 2, ভোর) ওরিয়ন (Orion) মহাকাশযান উৎক্ষেপণ হয়েছে। নাসা (NASA)-এর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, স্পেসক্রাফ্ট সফলভাবে রকেটের উপরের অংশ থেকে আলাদা হয়ে গিয়েছে। বিচ্ছিন্ন হওয়ার পরই মহাশূন্যে আর্টেমিস 2 মিশনের আসল পরীক্ষা শুরু হবে। আমেরিকার তিন জন এবং কানাডার এক জন মহাকাশচারী ক্যাপসুলে সওয়ার হয়েছেন। তারা 10 দিন ধরে অভিযান চালানোর পর পৃথিবীতে ফিরে আসবেন।
ওরিয়ন মহাকাশযানে থাকা চারজন নভোচারী আগামী একদিন পৃথিবীর কক্ষপথে থেকেই ক্যাপসুলের বিভিন্ন সিস্টেম সঠিকভাবে কাজ করছে কিনা, তা যাচাই এবং মূল্যায়ন করবেন। এই ধাপ চাঁদের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরুর আগে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আগামীকাল রাতে ওরিয়নের প্রধান ইঞ্জিন চালু করা হবে। তারপর ধীরে ধীরে পৃথিবীর মধ্যাকর্ষণ বল থেকে বেরিয়ে যেতে শুরু করবে।
পৃথিবীর কক্ষপথ ছাড়ার পরই শুরু হবে চাঁদের উদ্দেশ্যে আসল যাত্রা। 2,48,000 মাইল (প্রায় 4 লক্ষ কিলোমিটার) সফর করবেন তারা। সব পরিকল্পনা অনুসারে এগোলে, অভিযানে থাকা চারজন মহাকাশচারী মানবসভ্যতার ইতিহাসে পৃথিবী থেকে সবচেয়ে দূরে ভ্রমণ করবেন। আগামী 24 ঘন্টা পৃথিবীর কক্ষপথে ঘুরে ইঞ্জিন জ্বালিয়ে চাঁদের উদ্দেশ্যে রওনা হবেন। আর্টেমিস 2 অভিযানে অংশ নেওয়া চার মহাকাশচারী হলেন ভিক্টর গ্লোভার, রিড ওয়াইসম্যান, ক্রিস্টিনা কচ, ও জেরেমি হানসেন।
চাঁদে পৌঁছতে ওরিয়ন মহাকাশযানের প্রায় তিন দিন সময় লাগবে। চাঁদের কাছে পৌঁছে নভোচারীরা উপগ্রহের এমন অদৃশ্য অংশ ঘুরে আসবেন, যেখানে মানুষের দৃষ্টি আগে কখনও পড়েনি। স্লিংশট বা গ্রাভিটি অ্যাসিস্ট ম্যানুভারের মাধ্যমে চাঁদের আশপাশ ঘুরে আবার পৃথিবীর পথে ফিরে আসবেন তারা।
আর্টেমিস 2 অভিযানের প্রধান লক্ষ্য হল ওরিয়ন ক্যাপসুল যাত্রীদের কতটা সুরক্ষিত রাখতে পারে, তা পরীক্ষা করা। ফলে ভবিষ্যতে চাঁদ বা মঙ্গল অভিযানের জন্য মানুষের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। নভোচারীরা একাধিক বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলাবেন। মহাকাশ ভ্রমণ মানব শরীরের উপর কী প্রভাব ফেলছে, তা বিশদে অধ্যয়ন করবেন তারা।
এছাড়াও, চাঁদের পৃষ্ঠকে বিস্তারিতভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে। অভিযানটি অনেকটা অ্যাপোলো 8 মিশনের মতো। 1968 সালে তিনজন নভোচারী চাঁদের চারপাশে উড়ে গিয়েছিলেন, যা পরবর্তীতে চাঁদে অবতরণের জন্য প্রস্তুতি হিসেবে কাজ করেছিল৷ উল্লেখ্য, গ্রীক পুরাণে আর্টেমিস ছিলেন অ্যাপোলোর যমজ বোন ও চাঁদের সঙ্গে যুক্ত দেবী৷ তাই সেই অনুসারে নতুন অভিযানের নামকরণ হয়েছে৷
প্রযুক্তির সাম্প্রতিক খবর আর রিভিউস জানতে লাইক করুন আমাদের Facebook পেজ অথবা ফলো করুন Twitter আর সাবস্ক্রাইব করুন YouTube.
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন