মোবাইলের সেটিংসে কিছু পরিবর্তন করলে ইন্টারনেট স্পিড বাড়তে পারে
Photo Credit: Unsplash/Jonas Leupe
বর্তমান যুগে বিনোদন থেকে শুরু করে ব্যাঙ্কিং, শপিং, পেটপুজো, সবকিছু অনলাইনের উপর দাঁড়িয়ে। আর যখনই মোবাইলে ইন্টারনেটের স্পিড কমে যায়, তখন জীবনটাই যেন থেমে গিয়েছে বলে মনে হয়। ইউটিউব বা অন্য কোনও স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মে ভিডিও বারবার থেমে যাওয়া (বাফার), অ্যাপ লোড না হওয়া, ও ওয়েবসাইট খুলতে দেরি হওয়ার মতো সমস্যার সম্মুখীন প্রতিনিয়ত হচ্ছি আমরা। তবে কয়েকটি সহজ ও কার্যকর উপায় মেনে চললেই এই বিরক্তির সমাধান সম্ভব। স্মার্টফোনে ইন্টারনেটের গতি বৃদ্ধির জন্য কোনও বিশেষ প্রযুক্তিগত দক্ষতার প্রয়োজন পড়ে না। সেটিংসে কিছু পরিবর্তন ও কয়েকটি সহজ পদক্ষেপ অনুসরণ করলেই নেটের স্পিডে অগ্রগতি দেখতে পাবেন।
1. মোবাইলে ইন্টারনেটের গতির কমে যাওয়ার অন্যতম কারণ হল ক্যাশ মেমরি। স্মার্টফোনে ইনস্টল থাকা বিভিন্ন অ্যাপ সময়ের সাথে সাথে অস্থায়ী ফাইল জমা করে রাখে, যা পারফরম্যান্স কমিয়ে দেয়। তাই সেটিংসে গিয়ে অ্যাপ খুলে নিয়মিত ক্যাশ ডেটা পরিষ্কার করা জরুরি। এতে যেমন ইন্টার্নাল স্টোরেজ ফাঁকা হবে, তেমনই ডিভাইসের গতি ও ইন্টারনেট স্পিড উন্নত হতে দেখা যাবে।
2. পুরনো ফার্মওয়্যারে চলা মোবাইল ফোন অনেক সময় মোবাইল নেটওয়ার্কের সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতে পারে না। ফলে ইন্টারনেট স্লো হয়ে যায়। তাই নেটের স্পিড বৃদ্ধির জন্য ডিভাইসে লেটেস্ট সফটওয়্যার আপডেট ইনস্টল করে রাখুন। সফটওয়্যার আপডেট নতুন ফিচার্স যুক্ত করা ছাড়াও, কানেক্টিভিটি ও পারফরম্যান্সে ইমপ্রুভমেন্ট নিয়ে আসে। নতুন আপডেটে নেটওয়ার্ক সেটিংসও অপ্টিমাইজ হয়ে যায়।
3. বর্তমানে বেশিরভাগ ফোনে 3G, 4G, ও 5G নেটওয়ার্ক মোড থাকে। তবে অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, ফোন নিজে থেকে হাই স্পিডের নেটওয়ার্ক বেছে নিতে পারে না। তাই সেটিংসে গিয়ে সর্বোচ্চ নেটওয়ার্ক মোড সিলেক্ট করুন। সেটা 4G বা 5G হতে পারে৷ এই ছোট্ট পরিবর্তন নেটের স্পিডে বড় পার্থক্য আনতে পারে।
4. ফোনে একগাদা অ্যাপ রাখার প্রয়োজন নেই। অনেক অব্যবহৃত অ্যাপ ব্যাকগ্রাউন্ডে ডেটা খরচ করে। ফলে ইন্টারনেটের স্পিড কমতে দেখা যায়। এমন ধরনের অপ্রয়োজনীয় অ্যাপ ফোন থেকে মুছে ফেলুন। এছাড়াও, যে সব অ্যাপ আপডেট হওয়ার দরকার নেই, সেগুলোর ব্যাকগ্রাউন্ড ডেটা সীমিত করে রাখুন। এই টিপস পুরনো ডিভাইসের ক্ষেত্রে বিশেষ কার্যকরী। এতে ফোনের গতিও বেড়ে যাবে।
5. বয়স বাড়ার সাথে সাথে ডিভাইসের নেটওয়ার্ক কনফিগারেশনে ছোটখাটো সমস্যা তৈরি হতে পারে, যা ইন্টারনেট স্লো করার পিছনে ভূমিকা নেয়। এ ক্ষেত্রে নেটওয়ার্ক সেটিংস রিসেট করলে ফল পাওয়া যেতে পারে। তবে সেটি করার আগে Wi-Fi পাসওয়ার্ড লিখে রাখুন৷ VPN চালু থাকলে ডেটা ব্যাকআপ করুন। রিসেট করলে এই ধরনের তথ্য মুছে যাবে।
প্রযুক্তির সাম্প্রতিক খবর আর রিভিউস জানতে লাইক করুন আমাদের Facebook পেজ অথবা ফলো করুন Twitter আর সাবস্ক্রাইব করুন YouTube.