Microsoft AI CEO মুস্তাফা সুলেমান বলেছেন, দেড় বছরের মধ্যে বেশিরভাগ হোয়াইট-কলার চাকরি বিলুপ্ত হতে পারে।
Photo Credit: Unsplash/Scott Graham
Microsoft AI CEO warned that AI could automate most white-collar jobs within 12–18 months
কাজের বাজারে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রভাব ধীরে ধীরে টের পাচ্ছে সবাই। AI প্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতির ফলে আগামী পাঁচ বছরে এমন সব পেশা নিশ্চিহ্ন হয়ে যেতে পারে, যা মানুষের মেধা ছাড়া সম্পন্ন হওয়ার কথা ভাবাও যেত না। AI কম খরচে দক্ষতার সাথে কাজ করার কারণে প্রযুক্তি সংস্থাগুলি ইতিমধ্যেই বড় পরিসরে কর্মীসংখ্যা কমাতে শুরু করেছে। উদ্বেগ আরও বেড়েছে মাইক্রোসফ্টের (Microsoft) আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বিভাগের প্রধান মুস্তাফা সুলেমানের (Mustafa Suleyman) বক্তব্যে। তিনি বলেছেন যে, আগামী এক থেকে দেড় বছরের মধ্যে কর্মক্ষেত্রের চেনা ছবি সম্পুর্ণ বদলে যাবে। 2027 সালের মধ্যে বেশিরভাগ হোয়াইট-কলার চাকরি খেতে শুরু করবে এআই।
ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসের সাথে এক সাক্ষাৎকারে মুস্তাফা বলেন, যারা কম্পিউটারের সামনে বসে কাজ করেন — যেমন আইন, হিসাবরক্ষক, কোডিং, মার্কেটিং, কিংবা প্রোজেক্ট ম্যানেজমেন্টের মতো ক্ষেত্রে, তাদের দৈনন্দিন কাজের বড় অংশ এআই দ্বারা স্বয়ংক্রিয় হতে পারে। অর্থাৎ মানুষের মেধার প্রয়োজন হবে না। 2027 সালের মধ্যে অনেক ডিজিটাল নির্ভর বুদ্ধিদীপ্ত পেশা কার্যত বিলুপ্তির মুখে পড়তে পারে।
মুস্তাফা সুলেমানের মতে, পডকাস্ট করা বা নিজের ব্লগ লেখা যতটা সহজ, ভবিষ্যতে নিজের এআই মডেল তৈরি করা ততটাই সরল হয়ে উঠবে। শুধু বড় কর্পোরেট সংস্থা নয়, সাধারণ মানুষও নিজেদের চাহিদা এবং প্রয়োজন অনুসারে কাস্টম AI এজেন্ট তৈরি করতে পারবে। যে সব কাজে একটা পুরো টিমের প্রয়োজন হত, যেখানে এআই একাই সব সামলে নেবে। কর্মক্ষেত্রে এই রূপান্তর উইপ্রো, টিসিএস, ও ইনফোসিসের মতো আইটি সংস্থাগুলোর জন্য চ্যালেঞ্জ এবং সুযোগ দু'টোই নিয়ে আসতে পারে।
সুলেমান আরও বলেছেন, মাইক্রোসফ্ট পেশাদার স্তরের আর্টিফিশিয়াল জেনারেল ইন্টেলিজেন্স বা এজিআই (AGI) দিয়ে এন্টারপ্রাইজ (ব্যবসায়িক কাজ) মার্কেট দখল করতে চায়। এজিআই এমন এক ধরনের উন্নত এআই, যা একজন রক্তমাংসের মানুষের মতো প্রায় সব কাজ করতে সক্ষম। সেই পাওয়ারফুল এআই মডেল পেশাদারদের মতো ডেটা বিশ্লেষণ, ডকুমেন্ট তৈরি, ও অন্যান্য কাজ স্বয়ংক্রিয়ভাবে করতে পারবে।
সুলেমানের বক্তব্যে এটুকু স্পষ্ট, যাদের মূলত কম্পিউটারের সামনে বসে থেকে কাজ, তাদের অনেকেই চাকরি হারানোর ঝুঁকিতে রয়েছেন। ডিজিটাল প্রযুক্তি নির্ভর অধিকাংশ পেশাগত কাজ আগামী 12 থেকে 18 মাসে সম্পূর্ণরূপে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার হাতে চলে আসবে। কম্পিউটার আসার আগেও কাজ হারানোর শঙ্কায় ভুগেছিল মানুষ। কিন্তু কম্পিউটার উল্টে কোটি কোটি চাকরি সৃষ্টির মাধ্যমে অর্থনীতিতে জোয়ার এনেছে। আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স কি মানুষের কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে চলবে নাকি মানুষের প্রয়োজন শেষ করবে, সেই প্রশ্নের উত্তর চলতি দশকেই স্পষ্ট হয়ে যাবে।
প্রযুক্তির সাম্প্রতিক খবর আর রিভিউস জানতে লাইক করুন আমাদের Facebook পেজ অথবা ফলো করুন Twitter আর সাবস্ক্রাইব করুন YouTube.
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন