Gaitana AI বটের রূপকার কলম্বিয়ার ক্যারিবিয়ান উপকূলের জেনু সম্প্রদায়ের সদস্য কার্লোস রেডোন্ডো।
Photo Credit: Unsplash/Igor Omilaev
গাইতানা AI ডিজিটাল নারী অবতারে ভার্চুয়ালি ভোটারদের কাছে বার্তা পৌঁছে দিচ্ছে
Gaitana AI: আমাদের দৈনন্দিন জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে সুদূরপ্রসারী প্রভাব বিস্তার করছে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলেজেন্স বা এআই। তাহলে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া বাদ পড়বে কেন? ভোটের রণাঙ্গনে এবার কোমর বেঁধে নামছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা। নির্বাচনী লড়াইয়ে তার প্রতিপক্ষ মানুষ। এই কৃত্রিম মেধার নাম গাইতানা। রক্তমাংসের মানুষের মতো শারীরিক কোনও অস্তিত্ব নেই, তাহলে গাইতানা ভোট চাওয়া বা নির্বাচনী ইস্তেহার কীভাবে জানাবে? শরীর না থাকলেও সেই কৃত্রিম মেধার বট ডিজিটাল নারী অবতারে ভার্চুয়ালি ভোটারদের সামনে উপস্থিত হবে। নির্বাচনে AI বটের প্রতিদ্বন্দ্বিতার খবর প্রকাশ্যে আসতেই বিশ্বব্যাপী শোরগোল সৃষ্টি হয়েছে।
রাজনৈতিক দলের নেতা-মন্ত্রীদের কাজে খুশি এমন মানুষের সংখ্যা খুব কম। লাগামছাড়া দুর্নীতির গ্রাসে উন্নয়ন যাচ্ছে থমকে। এই পরিস্থিতিতে কৃত্রিম মেধা কি মানুষের বিকল্প হয়ে উঠতে পারবে? সে কি সরাসরি রাজনীতিতে অংশগ্রহণ করে সরকার পরিচালনায় ভূমিকা নেবে? কলম্বিয়ার সংসদীয় নির্বাচনে কৃত্রিম মেধা দ্বারা পরিচালিত নারী প্রার্থী হওয়ার আবেদনপত্র জমা দিতেই সেই প্রশ্ন আরও জোরালোভাবে উত্থাপিত হয়েছে।
দক্ষিণ আমেরিকার দেশটিতে আগামী মাসের শুরুতে নির্বাচন। কলম্বিয়ার বহু আসন আদিবাসীদের জন্য সংরক্ষিত। গাইতানা এমনই একটি আসনে প্রার্থী হতে চেয়ে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছে। AI বটের রূপকার কলম্বিয়ার ক্যারিবিয়ান উপকূলের জেনু সম্প্রদায়ের সদস্য কার্লোস রেডোন্ডো ও তার সহযোগীরা। তারা জানাচ্ছেন, প্রযুক্তির মাধ্যমে নেতা-মন্ত্রী ও রাজনীতিবিদদের চ্যালেঞ্জ এবং তাদের কাজের ভালমন্দ বিচার করতেই গাইতানাহ জন্ম।
সোশ্যাল মিডিয়াতে গাইতানার একাধিক ভিডিও ঘুরে বেড়াচ্ছে৷ আদিবাসী তরুণীর আদলে তাকে পালকযুক্ত সাজপোশাক এবং রূপ দেওয়া হয়েছে। গায়ের রং নীল। গাইতানার স্রষ্টাদের দাবি, রাজনৈতিক ব্যবস্থার প্রতি দেশের আমজনতার মধ্যে যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে, তা মেটাতেই এআই মানবীর উদ্ভাবন। ডিজিটাল প্রযুক্তির সাহায্যে আদিবাসী সমাজের দাবি ও কন্ঠস্বর প্রশাসনের কাছে পৌঁছে দিতে গাইতানা ভোটযুদ্ধে অবতীর্ণ হচ্ছে।
গাইতানার ডিজিটাল অবতারের ভিডিও মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে দিনরাত কাজ করে চলেছে তিনটি ছোট সার্ভার। কার্লোস রেডোন্ডো এবং তার সহযোগীরা সেই সমস্ত নির্বাচনী উপকরণ সোশ্যাল মিডিয়াতে প্রচারের উদ্দেশ্যে আপলোড করছেন। গাইতানা কী, সে কেন জন্ম নিয়েছে, তা জানতে এবং তাকে প্রশ্ন করার জন্য একটি ওয়েবসাইটও তৈরি হয়েছে।
রেডোন্ডো জানান, কৃত্রিম মেধার বটের পলিসি 10 হাজারের বেশি সোশ্যাল মিডিয়া ইউজারদের মতামত থেকে তৈরি। যদি 200 পাতার একটি বিল পার্লামেন্টে প্রস্তাব করা হয়, তাহলে গাইতানা এআই-এর মাধ্যমে বিলকে ইনফোগ্রাফিক্সে রূপান্তর করে মূল তথ্যের সারসংক্ষেপ জেনু সমাজকে জানাবে। তারপর ভালমন্দ বিচার করে মত দেবেন তারা৷ গাইতানা মতামতকে 'হ্যাঁ' এবং 'না' উত্তরে বিভক্ত করবে। যদি 50 শতাংশের বেশি সমর্থন আসে, তাহলে গাইতানা সেই বিলের পক্ষ দেবে।
তবে কলম্বিয়ায় নির্বাচনী দৌড়ে নাম লেখাতে গেলে তাকে অবশ্যই মানুষ হতে হয়। তাই গাইতানা সরাসরি ভোটে লড়ার অনুমোদন পাচ্ছে না। রেডোন্ডো ও তার সম্প্রদায়ের মানুষেরা সংসদীয় আসনের জন্য নিজেদের নাম নথিভুক্ত করেছেন। তবে ডিজিটাল প্রতিনিধি হিসেবে গাইতানার এআই অবতার ভোটযুদ্ধে নামছে।
প্রযুক্তির সাম্প্রতিক খবর আর রিভিউস জানতে লাইক করুন আমাদের Facebook পেজ অথবা ফলো করুন Twitter আর সাবস্ক্রাইব করুন YouTube.
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
Samsung Galaxy A27 Leaked in New Mint Colour Option Ahead of Anticipated Launch
Vivo X Fold 6 Confirmed to Launch in China Soon With OriginOS 6 Fold Skin, New AI Features